advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আ.লীগের সংঘর্ষে জীবন গেল ঠেলাচালকের

ফরিদপুর ও ছাতক প্রতিনিধি
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:১৪
advertisement

নৌপথে চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক শহর এবং ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ছাতকে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন নিরীহ এক ঠেলাগাড়িচালক।

ছাতকের সংঘর্ষ ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের সময়। আর বোয়ালমারীর সংঘর্ষ ঘটে গতকাল বুধবার সকালে।

ছাতকে সংঘর্ষ চলাকালে দুপক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ঠেলাগাড়িচালক শাহাবউদ্দিন। এ ছাড়া পুলিশসহ ৪০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ছয়জনকে ভর্তি করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় পুলিশ আটক করে ২৮ জনকে। বোয়ালমারীতে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার তারাবি নামাজ চলাকালে ছাতক-সিলেট সড়কের জালালিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ থেকে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েকশ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুলিশ সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বড় ভাই ও চাচাসহ ২৮ জনকে আটক করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীপথে চাঁদাবাজি নিয়ে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহীন চৌধুরী পক্ষের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা চলছিল। একপক্ষ অন্যপক্ষকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছিল। গত মঙ্গলবার বিকালে সুরমা নদীতে একপক্ষ অন্যপক্ষের নৌকা থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে।

এর জের ধরে শাহীন চৌধুরী, ছাতক পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী ও কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেনের নেতৃত্বে একপক্ষ শহরের বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। অন্যপক্ষ পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার উভয়পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টা চালান। রাত ৯টার দিকে বাগবাড়ী স্কুলে শাহীন চৌধুরী পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় মুরব্বি। এ সময় অপর পক্ষের সিংচাপইড় ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল ও যুবলীগ নেতা খোকন মিয়া মোবাইল ফোনে সংঘর্ষের উসকানি দিলে উভয়পক্ষ থেকে গোলাগুলি এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।

ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঠেলাগাড়িচালক শাহাবউদ্দিন নিহত হন। এ সময় ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সদস্য ফাইম, সজীব ইসলাম, তফাজ্জুল হক, ইমরান, সাকিরসহ ৪০ জন আহত হন। ওসি মোস্তফা কামাল, মেয়রের বড় ভাই কামাল চৌধুরী, ফরহাদ চৌধুরী, আবুল খয়ের টুটুল, সোহাগ দাস, সবরুল হোসেন সাজুকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে মেয়রের বড়ভাই জামাল আহমদ চৌধুরী, কামাল চৌধুরী, চাচা ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরীসহ পল্টু দাস, দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাদমান মাহমুদ সানি, যুবলীগ নেতা রহিম আলী, ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, কামরুল ইসলাম শাওন ব্যবসায়ী আশরাফ রাজা চৌধুরীসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। রাতেই পুলিশ মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা যায়। সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল বিল্লাল আহমদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগ না পেলে পুলিশ বাদী মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চণ্ডিবিলা গ্রামে গতকাল সকাল ৬টার দিকে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে শুরু হয়। আহতদের মধ্যে ঘোষপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মুন্নু মোল্যা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ কর্মী কাজী রফিউদ্দিন, তার ছেলে কাজী শামীম, মোস্তফা মোল্যা, সাইফুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, মতিয়ার রহমান, কবির হোসেন ও সাহেব আলীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক এসএম ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য চাঁন মিয়া এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল মেম্বার ও আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে প্রথমে তাদের পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে চাঁন মিয়া অভিযোগ করেন, আগের দিন রাতে তার লোকদের ওপর চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের লোকেরা হামলা চালায়। এ থেকেই গতকালের সংঘর্ষের সূত্রপাত।

হামলায় আহত এক নারী জানান, সেহরি খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে ঘুম ভেঙে দেখেন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা তাদের বাড়িঘর ঘিরে রেখেছে। এর পর বাবা ও দুই ভাইসহ তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ওই নারীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের অন্য কোনো বিরোধ নেই। শুধু আধিপত্য বিস্তারের জন্যই এভাবে তারা হামলা করে। বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।

advertisement