advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাদারীপুরের ২ জন নিহত, নিখোঁজ ৭

মাতুব্বর শফিক স্বপন,মাদারীপুর
১৭ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ মে ২০১৯ ০৯:৩০
advertisement

দালালদের খপ্পরে জিম্মি হয়ে সাগর পথে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে মাদারীপুরের নিহত জাকির হোসেন (২৮) ও সজিব হোসেনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত জাকির হোসেন শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর চর গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ছেলে এবং সজিব হোসেন সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া গ্রামের আজিজ শিকদারের ছেলে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন সদর ও রাজৈর উপজেলার আরও সাত যুবক। নিহত ও নিখোঁজ এই নয় যুবকের পরিবারে এবারের ঈদ কাটবে শোকে, বিষাদে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর পরিবারের সচ্ছলতা আনতে নূর-নবী খলিফা ও নূর ইসলাম খলিফা নামের দুই দালালের হাত ধরে বিদেশে পাড়ি জমান জাকির। জাকিরকে স্থলপথে তুরস্ক নেওয়ার কথা থাকলেও দালাল চক্র লিবিয়া নিয়ে জিম্মি করে। লিবিয়ায় জাকির হোসেনকে আটকে রেখে পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে তারা। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই ছেলেকে বিক্রি করে দেবে অথবা অনাহারে রাখবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এভাবে এ পর্যন্ত পরিবারটির কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র।

গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকূলে ট্রলারডুবিতে নিহত হন জাকির হোসেনসহ ৩৭ বাংলাদেশি। জাকির হোসেনকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের লোকজন। স্বামীকে হারিয়ে কান্না যেন থামছেই না শান্তা আক্তারের। অবুঝ দুটি কন্যাসন্তানকে সান্ত¦না দেওয়ার ভাষা নেই পরিবারের লোকজনের। সন্তান ট্রলারডুবিতে নিহত হওয়াকে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না নিহত জাকিরের বাবা-মামা। এদিকে সজিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা ও বোন একটু পরপরই সজিবের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে যাচ্ছে। ছেলে আর বেঁচে নেই-এটি কিছুতেই যেন মানতে পারছে না এই মা। পরিবারটির এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সজিবের স্বজনরা জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়েই গত ঈদের পরের দিন এক দালালের হাত ধরে লিবিয়া যান সজিব। এর পর লিবিয়ায় ছয় মাস কাজ করার পরে নোয়াখালীর রুমান নামে এক দালালের খপ্পরে পড়েন। সেই দালাল আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে সজিবকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। সজিব রাজি হন তার সাথে যেতে। এর পর দালাল টাকা নিয়ে সজিবকে লিবিয়ার জিম্মি দশায় বন্দি করে রাখে। দীর্ঘ চার মাস পরে গত বৃহস্পতিবার সজিবকে অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর কথা বলে সজিবকে নৌকায় তোলা হয়। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মাদারীপুরের আরও সাতজন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

এরা হলেন-সদর উপজেলার বল্লভদী গ্রামের আদেল উদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে মনির হোসেন মাতুব্বর (২২) ও শ্রীনদী এলাকার জোবায়ের মাতুব্বরের ছেলে নাদিম মাতুব্বর (১৭), খোয়াজপুর মঠেরবাজার এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪), মস্তফাপুর ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের আনোয়ার মল্লিকের ছেলে সায়েদ মল্লিক (৩০), মানিক মল্লিকের ছেলে স্বপন মল্লিক (২৭), একই এলাকার সাইফুল ইসলাম (৩০) ও রাজৈর উপজেলার আলম দস্তার গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে নাইম সিকদার (১৯)। নিহতদের লাশ দেশে আনার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। এ ছাড়া দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মাদারীপুর শাখার যুব প্রধান শিশির হোসেন বলেন, তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত মাদারীপুরের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। এর মধ্যে সজিব ও জাকির নামে দুইজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা নিহত ও নিখোঁজদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য নিয়েছি। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ভূমধ্যসাগরে নিহত ও নিখোঁজদের বিষয়ে জেলা প্রশাসন খোঁজ রাখছে। পরিবারগুলোকে এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

advertisement