advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেখিয়ে দিলেন সৌম্য-মোসাদ্দেক

মামুন হোসেন
১৮ মে ২০১৯ ০১:৫৫ | আপডেট: ১৮ মে ২০১৯ ০২:০৩

ইতিহাস গড়লেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ইতিহাস গড়া জয় এনে দিলেন দলকে। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মাত্র ২০ বলে অর্ধশত রান করে নতুন ইতিহাস রচনা করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে যা দ্রুততম অর্ধশতের নতুন রেকর্ড।

আগেরটি ২১ বলে; ১৪ বছরের পুরনো। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে মোহাম্মদ আশরাফুলের।

তবে ওয়ানডেতে ১৬ বলে অর্ধশত করে এই তালিকায় সবার ওপরে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের স্থান। মোসাদ্দেকের দিনে ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বল সৌম্য সরকারও। ২৭ বলে অর্ধশত পূরণ করা এ বাহাতি রেইফারের শিকার হওয়ার আগে ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

৯ চার আর ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান টাইগার ওপেনার। সৌম্য-মোসাদ্দেকে ব্যাটে চড়ে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুর তিন ম্যাচে দলে ছিলেন না মোসাদ্দেক। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর গত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে খেলার সুযোগ পান এ অলরাউন্ডার।

আইরিশদের বিপক্ষে ৮ ওভার বল করে ৩২ রানে উইকেটশূন্য মোসাদ্দেক; ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ বলে ১৪ রান করেন। সেই তিনিই ফাইনালে উইন্ডিজবধের নায়ক। দুর্দান্ত ইনিংসই শুধু খেলেননি, দলকে স্মরণীয় জয়ও উপহার দিয়েছেন মোসাদ্দেক।

শেষ ৩ ওভারে টাইগারদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ রানের। ১৫ বলে ২৬ রানে তখন অপরাজিত মোসাদ্দেক। ওই সময় অ্যালেনের হাতে বল তুলে দেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। রানের চাকা স্লথ করবেন কী; উল্টো ম্যাচ প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেন অ্যালেন।

২৫ রানে ওভার শেষ করেন। যা মোসাদ্দেক একাই তুলে নেন। তিন ছক্কার সঙ্গে এক চারের মার। ১২ বলে জয়ের জন্য ২ রানের দরকার হলে রেইফারকে ৪ মেরে খেলার ইতি টানেন মাহমুদউল্লাহ। ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক।

ডাবলিনের মালাহাইডে বৃষ্টিবিঘিœত ফাইনালে বাংলাদেশকে ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডাকওয়ার্থ-ল্ইুস মেথডের জটিল মারপ্যাঁচও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বাধার দেয়াল হতে পারেনি। শুরুতে তা হতে দেননি সৌম্য। বলের চেয়ে দ্বিগুণ বেগে রান তোলেন তিনি।

সিরিজে টানা তৃতীয় ফিফটি করে ম্যাচ নিজেদের কক্ষপথে রাখেন সৌম্য। উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৫৪ ও ৭৩ রানের ইনিংস খেলা ওপেনার; ফাইনালে থামেন ৬৬ রানে। সৌম্য-মোসাদ্দেকের দিনে মুশফিক ৩৬, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ১৯, তামিম ১৮ ও মিঠুন ১৭ রান করেন। সাব্বিরই একমাত্র ব্যাটসম্যান; যিনি ফাইনালে কোনো অবদান রাখতে পারেননি।