advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আস্থার জ্বালানি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে

এম.এম. মাসুক
১৯ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২০১৯ ০৯:৩৫
advertisement

বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ ছিল টাইগারদের প্রস্তুতির মঞ্চ। প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জিতেই এ প্রস্তুতি মঞ্চ রাঙালো বাংলাদেশ। বহু দিনের বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। একটি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপের জন্য বড় জ্বালানি পেয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। আরও বেশি তৃপ্তির জায়গা হলো-সাদামাটা খেলে নয়, দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়েই সোনার হরিণের দেখা মিলেছে।

আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের পেছনের সারিতে। উইন্ডিজের পেছনে আয়ারল্যান্ড। সাদা চোখে দেখলে, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অংশ নেওয়া দুটি দলের বিপক্ষে খেলে ট্রফি এসেছে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ জেতার ধরন। অনিন্দ্য সুন্দর ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ‘বিগ ফাইভ’ অর্থাৎ মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা এতদিন দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এই ‘বিগ ফাইভ’ ছাড়াই তরুণরা যে দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে পারে সেটি দেখিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে। দুর্দান্ত বাংলাদেশ আশা বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপে।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জয়কে সাধারণ জয় হিসেবে দেখেন না বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ট্রাইনেশন সিরিজের বিজয়কে আমি স্বাভাবিক বিজয় হিসেবে দেখি না। আমি একে দুটি দিক থেকে দেখি-এক. আমাদের এটা ছিল একটা স্বপ্নপূরণের। বহু বছর আগে ফাইনালে খেলেছি। কিন্তু সোনার হরিণ ছোঁয়া হয়নি। এবার ট্রাইনেশনে বাংলাদেশের এ বিজয় স্বপ্ন পূরণের টুর্নামেন্ট। যে জিনিসটা আমাদের আটকে রেখেছিল, তা ভেদ করতে পেরেছি।

দুই. বাংলাদেশ শুধু জেতার জন্যই খেলেনি। খেলাটাই বেশ নজরে পড়েছে। মাঠে দাপট দেখিয়েছে। প্রথমবারের মতো তারা প্রমাণ করেছে যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো অবস্থায় আগে ব্যাটিং কিংবা পরে ব্যাটিং করা সব জায়গা তারা দাপট দেখিয়েছে। অর্থাৎ বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। সেটি বিশাল অর্জন।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালকে টার্গেট করেছে। রকিবুল হাসান বলেন, আমি মনে করি, এই টার্গেটে যাওয়ার জন্য প্রথম যে ধাপ তা তারা পার হয়ে গেছে। যে আস্থা বা আত্মবিশ্বাসের লেভেলটা দরকার এবং দলের প্রত্যেক সদস্যের নিজেকে মেলে ধরার যে চেষ্টা তা সম্পূর্ণ সার্থকতা পেল। এ বিশ্বকাপে এ বিজয় বাংলাদেশ দলকে ভালো খেলার পেছনে অনেক বেশি আস্থা জোগাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটা (ট্রফি জয়) শুরু বলতে পারি। এ জয় আগামীতে টুর্নামেন্ট জিততে ভূমিকা রাখবে। খুশির বিষয়, আমরা সাদামাটাভাবে ম্যাচ জিতেছি তা নয়। পুরো টিম বিশ্বকাপের জন্য সার্বিকভাবে তৈরি হয়ে আছে।

বাংলাদেশের কিংবদন্তি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ত্রিদেশীয় সিরিজের সঙ্গে বিশ্বকাপের তুলনা করতে চান না। তার মতে, বাংলাদেশ টপ লেভেলের দল। এখন বাংলাদেশের চিন্তাভাবনা করা উচিত, যে টিমের সঙ্গে খেলবে সেখানে কী ফল করবে। এ ফল চোখে পড়বে। মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমিও আশা করি সেমিফাইনালে খেলুক বাংলাদেশ। কিন্তু জিতে যেতে হবে। এবার সবার সঙ্গে সবার খেলা। আগে কিন্তু দুটি গ্রুপ ছিল। এখন এ টুর্নামেন্টে অনেক কিছু হবে। এখানে চিন্তাভাবনা করা খুব মুশকিল। এখানে একটি একটি করে ম্যাচের চিন্তা করতে হবে। সব খেলার কথা চিন্তা করলে ঠিক হবে না।

প্রথমবারের মতো ট্রফি জয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। বিশ্বকাপের আগে এমন একটি শিরোপা জয় খুবই আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে বিশ্বকাপে বাঘা বাঘা বোলার আর দল থাকবে। এখানে বার্তা দেওয়ার কিছু নেই। দেখার বিষয়-আজকে আমি কী করেছি। আগামীকাল কী করতে হবে। বিশ্বকাপে ম্যাচ বাই ম্যাচ ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে কোথায় দেখতে চান? বেলিম জানান, যদি আমি স্বপ্ন দেখি তাহলে বলব, চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। যদি বাস্তবতায় বলি, এটা কঠিন বিশ্বকাপ। আমরা আগে যে কটি বিশ্বকাপ খেলেছি, এ বিশ্বকাপই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে।

advertisement