advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিজেপিবিরোধী জোটের মহাঐক্যের তোড়জোড়

আমাদের সময় ডেস্ক
১৯ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২০১৯ ০৮:৫৩

শেষ দফা তথা সপ্তম দফার নির্বাচন সামনে রেখে ভারতে সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলো তোড়জোড় শুরু করেছে। বিজেপিবিরোধী পক্ষে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতীসহ বেশকিছু বিরোধী দল জোট গঠনে বেশ তৎপর। ২৩ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার আগে ২১ মের সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে বিজেপিবিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা জোরালো করেছেন নাইডু।

বৃহত্তর জোট গঠনে কমিউনিস্ট পার্টি, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলও থাকছে তার ঐক্য প্রক্রিয়ায়। তবে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও বিরোধী জোট গঠন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পক্ষে কেউ কেউ অবস্থান নিয়েছে। ২৩ মে ফল ঘোষণার আগে বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা জোরালো করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডু। এ লক্ষ্যে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

advertisement

এনডিটিভি জানিয়েছে, নাইডু এর আগে ৮ মে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন, আর ২১ মে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় একমত পোষণ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি হান্ট জানায়, ১৮ মে নাইডু দিল্লিতে রাহুল গান্ধী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতীর সঙ্গে লক্ষনৌ বৈঠক করতে পারেন। এদিকে আজ সপ্তম দফা তথা শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৪৮৩টি আসনে নির্বাচন শেষ হয়েছে। আজ শেষ দফায় ৫৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দফার ভোটে মোট ভোটারসংখ্যা ১০ কোটির কিছু বেশি।

উত্তরপ্রদেশ (১৩), পাঞ্জাব (১৩), পশ্চিমবঙ্গ (৯), বিহার (৮), মধ্যপ্রদেশ (৮), হিমাচল প্রদেশ (৪), ঝাড়খন্ড (৩), চন্ডিগড় (১)টি আসনে এ ভোট গ্রহণ হবে। বাকি থাকবে শুধু ভেলোর লোকসভার নির্বাচন। রুপি দিয়ে ভোটারদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে সেখানে ভোট বাতিল হয়ে যায়।

শেষ দফার নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে ৯১৮ প্রার্থীর। এ তালিকায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রার্থী তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন লোকসভার সাবেক স্পিকার তথা মীরা কুমারের মতো কংগ্রেস প্রার্থীরাও। এ দফায় অন্যতম নজরকাড়া আসন হলো উত্তরপ্রদেশের বারানসি। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী অজয় রাই, সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির জোট প্রার্থী হয়েছেন শালিনী যাদব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ১৫ বছর পর কোনো লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালে অটল বিহারি বাজপেয়িই ২০০৪ সালে শেষবার লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর পর মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকলেও ওই সময় লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেননি। কারণ তিনি ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। মোদির আগে ভারতের সাতজন প্রধানমন্ত্রী পুনরায় লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে অন্যতম জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, চরণ সিং, রাজীব গান্ধী, চন্দ্রশেখর, নরসিমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি। বারানসি ছাড়াও বিহারের পাটনা সাহিব কেন্দ্রেও এবার সবার নজর থাকবে। এই কেন্দ্রে গতবারের জয়ী সাংসদ বিজেপির শত্রুঘ্ন সিনহা এবার কংগ্রেসের প্রার্থী। এবার তাকেই প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। বিহারের সাসারাম কেন্দ্রে এবারও কংগ্রেসের প্রার্থী মীরা কুমার।

২০০৪ ও ২০০৯ সালে এ আসনে পরপর দুইবার জিতলেও ২০১৪ সালে বিজেপি প্রার্থী চেড্ডি লাল পাসওয়ানের কাছে পরাজিত হন। আরা কেন্দ্রে লড়ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং। এ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মনোজ সিনহা লড়ছেন। মির্জাপুর কেন্দ্রে এনডিএ শরিক আপনা দল প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া সিং প্যাটেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়াও লড়াই করছেন গুরুদাসপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা সানি দেওল, ফিরোজপুর আসনে পাঞ্জাবের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও শিরোমণি আকালি দল (এসএডি) প্রার্থী সুখবীর বাদল, ভাতিন্ডায় বাদলের স্ত্রী তথা ও কেন্দ্রের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী হরসিমরাত কউর বাদল, অমৃতসরে আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী) হরদীপ পুরি।

পশ্চিমবঙ্গে নয়টি আসনে এ ধাপে ভোট হচ্ছে। সেগুলো হলো কলকাতা দক্ষিণ ও কলকাতা উত্তর, যাদবপুর, দমদম, বারাসাত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার। মোট প্রার্থী রয়েছেন ১১১ জন। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যনার্জি। দমদম কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় নগরায়ণ প্রতিমন্ত্রী সৌগত রায়, তার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী সাবেক বিধায়ক সমীক ভট্টাচার্য। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে এ কেন্দ্রে বিজেপি জয় পেলেও ২০০৪ সাল থেকে এটি তৃণমূলের দখলে। নজর থাকবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একসময়ের কেন্দ্র ‘কলকাতা দক্ষিণে’র দিকেও। এ কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী চন্দ্র কুমার বসু (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাতনি), তৃণমূলের প্রার্থী মালা রায়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এ ৫৯ আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পায় ৪০ আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই জয় পায় ৩৩ আসনে। তৃণমূল-৯টি, আপ-৪টি, কংগ্রেস-৩টি, ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ২টি, জনতা দল ইউনাইটেড ১টি আসনে জয় পায়। আজকের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে গত ৩৯ দিন ধরে চলা সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানা যাবে ২৩ মে।