advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ন্যূনতম বয়সের গেজেট বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০৯:৩০

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা সব গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বয়সসীমা নির্ধারণের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে ১৫টি রিট আবেদনে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ধারা অনুযায়ী বয়সসীমা নির্ধারণের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়াসহ বন্ধ থাকা সম্মানীভাতা পরিশোধ বা চালু করতে বলেছেন আদালত। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করতে বলা হয়। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন, ওমর সাদাত, ইউনুছ আলী আকন্দ, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, নারগিস তানজিমা, সেলিনা আক্তার চৌধুরী, শরীফ আহমেদ, শুভ্রজিত ব্যানার্জি ও এআরএম কামরুজ্জামান কাকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

পরে ওমর সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছিলেন, কোনো রকম কারণ দর্শানের নোটিশ ছাড়াই তাদের ভাতা বন্ধ করে দিয়ে বলা হয়Ñ মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর ৬ মাস হয়নি তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। ‘সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণে দেখবেন, তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে বয়সের কোনো ব্যাপার ছিল না। বীরপ্রতীক ছিলেন শহীদুল ইসলাম লালু। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন এবং বীরপ্রতীক খেতাব দিয়েছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে বীরপ্রতীক তো ননই, তিনি আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও বিবেচিত হবেন না। আদালত এ নিয়ে অত্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করেছেন।’

২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর যে গেজেট জারি করা হয়, পরে তা ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও বয়স নির্ধারণ’ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। এর পর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি গেজেটের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর জারি করা গেজেটে বয়স প্রতিস্থাপন করে ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস করা হয়। এই দুটি গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ধারা অনুযায়ী সরকারের বয়সসীমা নির্ধারণের ধারার আংশিক চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট আবেদন করেন।