advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আশ্বাসে সরে গেলেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০২:৪১
advertisement

আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের আশ্বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। সেই সঙ্গে দুপক্ষের মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর আগে গতকাল রবিবার মধ্যরাতে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পদবঞ্চিতদের ৪ ঘণ্টার বৈঠক হয়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বিএম মোজাম্মেল হক তাদের বিভিন্ন দাবির কথা শোনেন। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের চার নেতা বলেনÑ এ বিষয় আমরা কোনো কথা বলব না। এর পর কথা বলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সাংবাদিকদের শোভন বলেন, ‘আমাদের কিছু কর্মীর সামান্য মান-অভিমান ছিল। সেগুলো শোনা হয়েছে। ১৭টি পদ নিয়ে তাদের অভিযোগ আছে। আর সে অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন এ বিষয় খোঁজ নিতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পদগুলো শূন্য হওয়ার সুযোগ আছে। আর পদ শূন্য হলে সেখানে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। সে বিষয়েই কথা হয়েছে।’
এরপর শোভন ও রাব্বানী ধানম-ি থেকে ঢাবিতে গিয়ে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শোভন বলেন, ‘যা হওয়ার তা হয়েছে, আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। শোধরানোর পরিবেশ তৈরির পথে। বেশকিছু পদ বিলুপ্তির পথে। সেগুলো পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার জন্য সবাইকে একসঙ্গে বসতে হবে। তবে আমাদের না মানলে পদ পাবেন না। আর কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, দু-একদিনের মধ্যেই সব সমাধান হবে।’ শোভনের এ বক্তব্যের পর সবাই অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
মারধরের অভিযোগ তুলে গেল শনিবার মধ্যরাত থেকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া ‘বিতর্কিত’ নেতাদের বহিষ্কার করে শূন্যপদে তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন বঞ্চিত অংশের ক্ষুব্ধ নেতারা।
এদিকে শনিবার রাত ৩টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে পদবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান শোভন ও গোলাম রাব্বানী। পদবঞ্চিতরা তখন এ অনুরোধ উপেক্ষা করে মারধরের বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সেখান থেকে চলে যেতেও বলেন। এ সময় গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমি সরি। তোমরা চলে যাও। আমি কাল (রবিবার) নেত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসব।’
অপহরণ শঙ্কায় ছাত্রলীগ নেত্রীর জিডি : ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পেয়ে প্রতিবাদ করা এবং এর জেরে হামলার শিকার হওয়া রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা অপহরণের আশঙ্কায় শাহবাগ থানায় গতকাল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গতকাল দুপুরে ঢাবি সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এসকে রিমা তাকে ফোন দিয়ে বলেনÑ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার সঙ্গে কথা বলতে চান। সন্ধ্যায় রিমা হাতিরপুলের একটি বাসায় শ্রাবণী দিশার কাছে যান। কিন্তু রিমার আচরণ দেখে শ্রাবণী ধারণা করেন, উপমন্ত্রীর কথা বলে তাকে বের করে ভিন্ন কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি টের পেয়ে রিমাও তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান। পরে তারা জানতে পারেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গত ১৪ মে সরকারি সফরে চীনে গেছেন, ফিরবেন ২০ মে (আজ)।
এ ঘটনায় শ্রাবণী দিশা শাহবাগ থানায় জিডি করেন। থানায় জিডি করার সময় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এসকে রিমা বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল আমার কাছে ফোন করে শ্রাবণী দিশার নম্বর চান। পরে শ্রাবণী দিশা আমাকে ফোন দিয়ে হাতিরপুলের একটি বাসায় যেতে বলেন। আমি সেখানে যাই। তার সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথাবার্তাও হয়। এখানে অপহরণের কী হলো, বুঝতে পারছি না! মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দেশে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।

 

advertisement