advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংকের লাভ আটকে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ১২:৩২

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি জারি করা সার্কুলারে খেলাপিদের গণছাড়ে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাংকিং খাত থেকে মালিকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে তুলে নেওয়ার সম্ভাবনাও জাগে।

শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ বন্ধ করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে খেলাপি ঋণের বিপরীতে যে হারে প্রভিশন রাখতে হতো সেই পরিমাণ প্রভিশন রাখার নির্দেশ দিয়ে গতকাল রবিবার আরেকটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

এর বাইরে ৫০ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করা আছে। অবলোপনের বিপরীতে ৫০ হাজার প্রভিশন রাখা আছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে আছে ৫০ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। ব্যাংকের আয়ের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা আটকে আছে। নীতিমালায় ছাড় দেওয়ার ফলে প্রভিশন রাখতে হতো মাত্র ১ শতাংশ। অর্থাৎ এক হাজার কোটি টাকা রাখলেই চলত। বাকি অর্থ ব্যাংক আয় দেখিয়ে মুনাফা বাড়াতে পারবে।

মুনাফার অর্থ ব্যাংকের মালিকরা ডিভিডেন্ট হিসেবে বের করে নিতে পারেন। অনেক ব্যাংকের পরিচালক বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণখেলাপি। তারা একদিকে সুদ মওকুফ অন্যদিকে ডিভিডেন্ট হিসেবে বিপুল অঙ্কের অর্থ পকেট ভরতে পারবেন। মালিকরা লাভবান হলেও সংকট বাড়ত ব্যাংকের। গত ১৬ মে জারি করা পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা সংশোধন করে বলা হয়, পুনঃতফসিল করা ঋণ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট (এসএমএ) হিসেবে শ্রেণিকরণ করতে হবে।

তবে গত ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক ঋণের খেলাপির যে মান রয়েছে সেই মান অনুসারে প্রভিশন করতে হবে। অর্থাৎ সাব স্ট্যান্ডার্ড হলে ২৫ শতাংশ, ডাউটফুল হলে ৫০ শতাংশ এবং ব্যাড/লস হলে ১০০ ভাগ প্রভিশন করতে হয়। নীতিমালার আলোকে ব্যাড/লস মানের খেলাপি ঋণকে পুনঃতফসিল করা হবে। এজন্য ঋণের বিপরীতে ব্যাংক শতভাগ প্রভিশন রেখেছে।

পুনঃতফসিল করা ঋণ থেকে প্রকৃত আদায় বাদে সংরক্ষিত প্রভিশনের অর্থ আয় খাতে আনা যাবে না। যে পরিমাণ আদায় হবে আনুপাতিক হারে ওই পরিমাণ প্রভিশনের অর্থ আয় খাতে দেখানো যাবে। আর পুনঃতফসিল করা ঋণ এসএমএ মানে শ্রেণিকরণ করে তার বিপরীতে ১ শতাংশ হারে জেনারেল প্রভিশন রাখতে হবে। প্রভিশনে সংরক্ষিত অবশিষ্ট অংশ স্পেসিফিক প্রভিশন হিসেবে দেখাতে হবে।