advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভারতে আবার মোদি জোয়ারের আভাস

আমাদের সময় ডেস্ক
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ১১:২৭
advertisement

চরম উত্তেজনার মধ্যে শেষ দফা ভোটগ্রহণের দিনই ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ হয়েছে। সমস্ত জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এতে আবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জোয়ারের আভাস পাওয়া গেছে।

নিউজ-১৮-আইপিএসওএস, টুডেজ চানক্য, রিপাবলিক-সি ভোটার, এবিপি-সিএসডিএস, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস নাউ-সিএনএক্স, নিউজ এক্স-এনইটিএসহ বিভিন্ন চ্যানেলের ও সংস্থা এই জরিপ পরিচালনা করেছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় সব জরিপের ফল একসঙ্গে প্রকাশ হয়। এর মধ্যে টাইমস নাউয়ের জরিপে দেখা গেছে, লোকসভার মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০০-এর বেশি আসনে জিতে ভারতের শাসনক্ষমতা নিজেদের দখলেই রাখছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তাদের দখলে থাকতে পারে ৩০৬টি আসন।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে পারে মাত্র ১৩২টি আসন। এ ছাড়া অন্য দলগুলোর দখলে যাবে ১০৪টি আসন। সি-ভোটার বলছে, এনডিএ পাবে ২৮৭ আসন, ইউপিএ ১২৮ আসন, মহাগঠবন্ধন বা এমজিবি জোট পাবে ৪০ আসন, আর অন্য দলগুলো পাবে ৮৭টি আসন। টুডেজ চানক্যের জরিপে দেখা যায়, এনডিএ ৩৪০, ইউপিএ ৭৯ এবং অন্য দলগুলো ১৫০টি আসন পেতে পারে। সব জরিপের গড় হিসাব খ্যাত পোল অব পোলস বলছে, এনডিএ পাবে ২৯৬টি আসন, ইউপিএ পাবে ১২৬টি আসন এবং অন্য দলগুলোর দখলে থাকবে ১২০টি আসন।

এদিন রাজ্যভিত্তিক বুথফেরত জরিপও প্রকাশ করে ভারতের গণমাধ্যমগুলো। টাইমস নাউয়ের জরিপ বলছে, উত্তরপ্রদেশে এনডিএ জোট পেতে পারে ৫৮টি, এমজিবি ২০টি ও ইউপিএ জোট ২টি আসন। মহারাষ্ট্রে এনডিএ জোট ৩৮টি এবং ইউপিএ ১০টি আসন পেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ২৮টি, বিজেপি ১১টি, কংগ্রেস ২টি এবং বামফ্রন্ট ১টি আসন পেতে পারে। বিহারে এনডিএ ৩০টি, ইউপিএ ১০টি আসন পেতে পারে। তামিলনাড়–তে ইউপিএ ২৯টি এবং এনডিএ ৯টি আসন পেতে পারে। আবার কর্নাটকে এনডিএ ২১টি ও ইউপিএ ৭টি আসন পেতে পারে। কেরালায় ইউপিএ ১৫টি, এনডিএ ১টি এবং অন্যরা ৪টি আসন পেতে পারে। পাঞ্জাবে ইউপিএ ১০টি এবং এনডিএ ৩টি আসন পেতে পারে।

সি-ভোটারের জরিপ বলছে, উত্তরপ্রদেশে এমজিবি ৪০টি, এনডিএ ৩৮টি, ইউপিএ ২টি আসন পেতে পারে। মহারাষ্ট্রে এনডিএ পেতে পারে ৩৪টি এবং ইউপিএ ১৪টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ২৯টি, বিজেপি ১১টি এবং কংগ্রেস ২টি আসন পেতে পারে। বিহারে এনডিএ ৩৩টি, ইউপিএ ৫ এবং অন্যরা পেতে পারে ২টি আসন। তামিলনাড়–তে ইউপিএ পেতে পারে ২৭টি, এনডিএ শূন্য এবং অন্যরা ১১টি আসন। কর্নাটকে এনডিএ ১৪টি, ইউপিএ ৯টি এবং অন্যরা ১টি আসন পেতে পারে। মধ্যপ্রদেশে এনডিএ পেতে পারে ২৪টি এবং ইউপিএ ৫টি আসন।

আর পোল অব পোলস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে এনডিএ ৪৩, এমজিবি ৩৫ এবং ইউপিএ ২টি আসন পেতে পারে। মহারাষ্ট্রে এনডিএ পেতে পারে ৩৭ এবং ইউপিএ ১১টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ২৫টি, বিজেপি ১৪ এবং কংগ্রেস ২টি আসন পেতে পারে। আসামে এনডিএ পেতে পারে ৮টি, ইউপিএ ৩ এবং অন্যরা ২টি আসন। কর্নাটকে এনডিএ ২১ এবং ইউপিএ ৭টি আসন লাভ করতে পারে।

মূলত ভোটাররা কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা জানতে চাওয়ার মধ্য দিয়ে যে জরিপ পরিচালিত হয়, তাকে বুথফেরত জরিপ বলে। ভোটাররা বুথ থেকে বের হয়ে আসার পর এ ধরনের জরিপ পরিচালিত হয়। এ ধারার জরিপের মধ্য দিয়ে কোন দল সরকার গঠন করবে, তার ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলেন, বুথফেরত জরিপের ফলই নির্বাচনের শেষ কথা বলে না। কারণ এর আভাস যে সত্যি হবেই, এমন গ্যারান্টি নেই। ২০০৪ সালেও অটল বিহারি বাজপেয়ির প্রত্যাবর্তনের সংকেত দিয়েছিল বুথফেরত সমীক্ষা; কিন্তু তা মেলেনি। আবার ২০০৯ সালেও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর আসন নিয়েও ভুল করা হয়েছিল বুথফেরত জরিপে।

যদিও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রতিটি বুথফেরত জরিপ ভুল হতে পারে না। এখন সময় হয়েছে টিভির সুইচ বন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লগআউট করে অপেক্ষা করা। আর দেখা, ২৩ তারিখ পর্যন্ত পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘুরছে কিনা।

তবে কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধী দলগুলোও এ জরিপকে পাত্তা দিচ্ছে না। তারা বলছে, দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে ও নানাভাবে নিজেদের পক্ষে করে নিয়েছে বিজেপি। কাজেই বুথফেরত জরিপের নামে তারা কী ফল দেবে তা অনুমান করা কঠিন নয়।
আবার এক টুইটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সমীক্ষার গসিপে আমি বিশ্বাসী নই। এ খেলাটা ম্যানুপুলেট করা হয়েছে অথবা হাজারো ইভিএম বদল করা হয়েছে। সমস্ত বিরোধী দলকে আমি জোটবদ্ধ হতে এবং এ যুদ্ধ একসঙ্গে লড়ার আহ্বান করছি।

এর আগে গতকাল সকালে ভারতের ৮ রাজ্যের ৫৯টি লোকসভা আসনে ১০ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে বিহারে ৮টি, হিমাচল প্রদেশে ৪টি, চ-িগড়ে ১টি, ঝাড়খ-ে ৩টি, মধ্যপ্রদেশে ৮টি, পাঞ্জাবে ১৩টি, উত্তরপ্রদেশে ১৩টি এবং পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসনে ভোট হয়েছে। এসব আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (উত্তরপ্রদেশের বারানসি)।

এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ, দ্য হিন্দুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত আট রাজ্যে মোট ৫৩.০৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ঝাড়খ-ে, ৬৬.৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া বিহারে ৪৬.৭৫, হিমাচলে ৫৭.৪৩, মধ্যপ্রদেশে ৫৯.৭৫, পাঞ্জাবে ৫০.৪৯, উত্তরপ্রদেশে ৪৭.২১, পশ্চিমবঙ্গে ৬৪.৮৭ এবং চ-িগড়ে ৫১.১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আগের ছয় দফার মতো এবারও ভোটে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এ ছাড়া পাঞ্জাব ও বিহারেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল ভোটের পর এখন সারা ভারত অপেক্ষা করছে ফলের। দিল্লির মসনদে কোন দল আসীন হবে, তা জানা যাবে আগামী ২৩ মে। ওই দিন লোকসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার কথা রয়েছে।