advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেলায় মিলছে কম দামে ভালো পণ্য

রেজাউল রেজা ও ইশরাতুল শোভা
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০১:০৭
advertisement

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসেছে তাঁত ও বস্ত্র মেলা। বিভিন্ন ফ্যাশন ও ডিজাইনের পোশাক আর গহনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। স্টলভেদে বিদেশি নানা পোশাকের ভিড়ে দেশি তাঁত ও স্থানীয় বাজারের পোশাকও মিলছে বেশ।

দামে কম, নানা ছাড় এবং মানসম্মত পণ্য হওয়ায় মেলা দর্শনে আসছেন সব শ্রেণির ক্রেতাই। ঘুরে ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এ মেলা অবশ্য এখনো জমে ওঠেনি। তবে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।

মেলা থেকে ঈদের কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ায় শেষের দিকে জমজমাট ব্যবসার আশায়ই বুক বেঁধে রয়েছেন তারা। প্রতিবছরের মতো এবারও বেইলি রোডে বাংলাদেশ উইভার্স প্রোডাক্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন মেলার আয়োজন করেছে। দেশের জামদানি পোশাক ও তাঁতবস্ত্র জনপ্রিয় করতে এ আয়োজন। এবারের মেলায় ৫৮টি স্টল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টিই জামদানি পণ্যের।

বাকি ৩০টিতে রয়েছে বিভিন্ন তাঁতবস্ত্র। এগুলোয় হরেক রকমের জামদানি শাড়ি, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, মিরপুরের বেনারসি, কাতান শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের দেশি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও আছে জামদানি কাপড় দিয়ে তৈরি মেয়েদের থ্রিপিস, ওড়না, সালোয়ার, কামিজ, বাচ্চাদের বিভিন্ন রকমের পোশাক।

তাঁতের লুঙ্গি, তাঁতের বেড কভার, কুশন কভার, থ্রিপিস, টেবিল ম্যাট, বুটিকের শাড়ি, বুটিকের জামা, ফতুয়া, ছেলেদের পাঞ্জাবিসহ সব ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এখানে। তবে জামদানি শাড়ি, জামদানি কাপড় দিয়ে তৈরি মেয়েদের পোশাক, ছেলেদের পাঞ্জাবিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মান ও কারুকাজভেদে জামদানি শাড়ি ৩ হাজার থেকে শুরু করে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়।

কারুকাজ যত বেশি শাড়ির দামও তত বেশি। জামদানির তৈরি মেয়েদের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৫ হাজার টাকায়। এগুলোয় জামদানি কারিগরদের কাজের পাশাপাশি বুটিকের কাজও রয়েছে। কাজের মানভেদে দামও কম-বেশি হয়। একই কাপড়ে তৈরি ছেলেদের পাঞ্জাবির দাম আকার ও বৈচিত্র্যভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

রূপগঞ্জ জামদানি হাউসের কর্ণধার আবু সেলিম জানান, বেইলি রোডের অনেক জমদানি শাড়ি ও পোশাকের শোরুম রয়েছে। সেগুলোয় দাম অনেক বেশি। একই পণ্য মেলায় তুলনামূলকভাবে দাম অনেক কম।

কিছু পোশাক তো শোরুমের চেয়ে এখানে অর্ধেক দামে বিক্রি হয়। তাই অনেকে মেলা থেকেই পছন্দের পোশাকটি কিনছেন। মেলায় বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক রয়েছে। এর মধ্যে ফ্রক ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, থ্রিপিস আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের তাঁতের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায়।

শাড়িতে হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে দাম। এর মধ্যে মিরপুরের বেনারসি, কাতান ও টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। জামদানির চেয়ে এগুলোর দামও কিছুটা কম। মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রতিবছরই আয়োজন করার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে এ মেলা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই অনেক ক্রেতা ঈদের কেনাকাটা করতে মেলায় চলে আসেন।

আমরা মেলায় কম দামে ক্রেতাদের ভালো পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করি।’ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন রাজধানীর কারওয়ানবাজারের তাঁত ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দেশীয় পোশাকের মেলায়। সেখানে ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সী মানুষের জন্যই রয়েছে বাহারি আয়োজন। যারা কিনতে এসেছেন তারাও খুশি এ আয়োজনে। সঙ্গে রয়েছে নানা ছাড়।

দাম হাতের নাগালে থাকায় পছন্দের পোশাক কিনতে কার্পণ্য করছেন না ক্রেতারা। কথা হয় মেলায় ঘুরতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহসানুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেলা মানেই উৎসব আমেজ। আর ঈদকে সামনে রেখে পোশাকের মেলার এমন আয়োজন আরও বাড়তি আনন্দের। বাজেটের মধ্যে সুন্দর পোশাক পাওয়া যায় বলে এখানকার মেলায় এসেছি।’

প্রতিবছরের মতো শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবারও চলছে তাঁত ও বস্ত্র মেলা। এখানে রয়েছে শতাধিক দোকান। হাতে তৈরি ঢাকাই জামদানি, তাঁতের শাড়ি, কুটিরশিল্প, বড় ও ছোটদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক মিলছে স্টলগুলোয়। রয়েছে প্রসাধনী, ব্যাগ, জুতা থেকে শুরু করে হরেক রকম সামগ্রী। মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামলী ক্লাবের সদস্য মো. আলী বললেন, ‘মেলার প্রথম দিকে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাটাই বেশি।

১৫ রোজার পরেই মূলত জমে উঠবে বেচাকেনা। এমনটাই হয়ে আসছে প্রতিবছর।’ বনানীর রাজউক মাঠেও চলছে ঈদ মেলা। এ মেলার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান নাইট অউল ইভেন্ট সলিউশনের বিপণন কর্মকর্তা মো. খালেদ বলেন, ‘আমাদের মেলায় এবার থাকছে ৯০টি স্টল। অধিকাংশ স্টল বুকিং হয়ে গেছে। আমরা শেষ সময়ে আরও কিছু স্টল বুকিং নিচ্ছি। তবে মেলা ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে, বিক্রি বাড়তে আরও সময় লাগবে।’

ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুব্যবস্থা এবং মেলায় ক্রেতারা নির্বিঘেœ নিরাপদে কেনাকাটা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। রাজধানীর শনিরআখড়ার দনিয়া মাঠে প্রতিবারের মাতো এবারও জমে উঠেছে ঈদ মেলা। এখানে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও অনেক ভালো বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটার পাশাপাশি মেলাগুলোয় রয়েছে বিনোদনেরও সুব্যবস্থা।

একপ্রান্তে রয়েছে শিশু ও বড়দের জন্য নানা ধরনের রাইড ও খাবারের দোকান। সেখানেও ভিড় মন্দ নয়। শ্যামলীর মেলাতেও আছে মিনি শিশু পার্ক। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নাগোরদোলাসহ অন্যান্য রাইড। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে মেলাগুলোর দ্বার। তবে ঈদ উপলক্ষে যতক্ষণ ক্রেতা থাকেন ততক্ষণই চলে বেচাকেনা।

advertisement