advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমদানির অর্ধেক ছোলাই পড়ে আছে আড়তে

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০৮:৩০
advertisement

অস্বাভাবিক গরম, মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরি ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে এবারের রমজানে কমেছে ছোলার চাহিদা। ফলে আমদানি করা ছোলার অর্ধেকই অবিক্রীত রয়েছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরমের কারণে ছোলার স্থান দখল করেছে মৌসুমি ফল ও অন্যান্য পানীয় জাতীয় খাদ্য। আড়তগুলোয় পড়ে আছে ছোলা। ক্রেতা না পেয়ে ব্যবসায় মন্দা চলছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রোজা শুরুর আগে পাইকারি বাজারে ছোলা বেচাকেনা বেশি হয়। এ সময় পণ্যটির দামও বাড়ে। এবার রোজার আগে পাইকারি বাজারে ছোলার বিক্রি তেমন একটা হয়নি। প্রতিবছর রোজার সময়ও ছোলার বেচাকেনা ও দাম দুই-ই চাঙ্গা থাকে।

এবার ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনায় মন্দার কারণে পণ্যটির দামও কমে আসে। এখনো ছোলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়ে গেছে। এ কারণে অবিক্রীত ছোলা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বাড়তি ছোলা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খাতুনগঞ্জের ছোলার পাইকারি বিক্রেতা ও মেসার্স আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সৈকত আলম চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, আমদানিকারকের কাছ থেকে তিন মাস আগে আট হাজার টন ছোলা সংগ্রহ করি। এর আগের বছরের ২ হাজার টনেরও বেশি ছোলা গুদামে ছিল। ভাবছিলাম অন্যান্য বছরের মতো এবারও ছোলার চাহিদা থাকবে। কিন্তু এখনো অবিক্রীত আছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন ছোলা।

অবিক্রীত থাকা ছোলাগুলো আদৌ বিক্রি করতে পারব কিনা সন্দেহ আছে। একই কথা বললেন খাতুনগঞ্জের কিং ট্রেডার্সের মালিক পরিতোষ দে। তিনি বলেন, গত বছর থেকে রোজার সময় অতিরিক্ত গরম পড়ার কারণে ছোলার বাজার জমছে না। আমরা যারা ছোলার আড়তদার, তাদের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। এখন পর্যন্ত অর্ধেক ছোলা অবিক্রীত রয়ে গেছে। বাকি রোজাগুলো বিক্রি করতে পারলে হয়তো ক্ষতি কোনোভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, গরম বেশি পড়ায় মানুষ ইফতারে ছোলার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। খেজুর, লেবুর শরবত, বিভিন্ন ধরনের জুস, দই-চিড়া, মৌসুমি ফলমূল, পিঠাপুলি, পায়েশ-ফিরনি এসবই পছন্দ স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের। ছোলা রান্নায় তেল, মসলা ইত্যাদি দেওয়ায় অনেকে কোলেস্টেরলসহ নানা ঝুঁকির কারণেও এড়িয়ে চলছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানির তথ্যমতে, অক্টোবর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত (ছয় মাস) সময়ে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৯৩ টন। আর এসব ছোলা আমদানি করেছেন দেশের ৭৪ জন ব্যবসায়ী। প্রতি বছর রোজায় গড়ে ৮০-৯০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে। সে হিসেবে ব্যবসায়ীরা চাহিদার অতিরিক্ত আমদানি করেন। কিন্তু সে অনুপাতে বিক্রি হয়নি।

ফলে খাতুনগঞ্জের আড়তগুলো প্রায় অর্ধেক ছোলা মজুদ রয়েছে। খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভালোমানের অস্ট্রেলিয়ান ছোলা প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজা শুরুর আগে একই মানের ছোলা বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। অন্যদিকে রোজা শুরুর আগে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা প্রতিমণ ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

বর্তমানে সেটি ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছর যেখানে রোজা শুরুর পর ছোলার বাজার ক্রমেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে, সেখানে এবারের রোজায় পণ্যটির দাম রয়েছে কমতির দিকে। চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন বলেন, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং আমদানিসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়তি ছোলা আমদানি করা হয়েছে।

এবারের রোজায় বাড়তি আমদানির বিপরীতে ছোলার বেচাকেনাও অন্যবারের মতো খুব একটা বাড়েনি। ফলে আড়তগুলোয় ছোলার বড় ধরনের মজুদ গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মজুদ রাখতে হলে ছোলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এর ফলে এবারও আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

advertisement