advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মিথ্যা তথ্য দিয়ে সুবিধা নিলে ছয় মাস কারাদণ্ড

ইউসুফ আরেফিন
২০ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০৯:৩২
advertisement

মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সুবিধা নিলে তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখে সামাজিক নিরাপত্তা (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০১৯-এর খসড়া প্রণয়ন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ ছাড়াও অন্য কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ভাতা বা সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা, অন্যায়ভাবে কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা ভাতা প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে গাফিলতি, অসহযোগিতা বা অবহেলা প্রদর্শনের কোনো কাজ করলে তার জন্যও একই শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

খসড়া আইনটির ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হয়। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, উপকারভোগী নির্বাচনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এতদসংক্রান্ত দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাত সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহের শাস্তির বিধান করা প্রয়োজন। খসড়ায় বলা হয়, উপকারভোগীর কাছে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা ডিজিটাল পদ্ধতি মোবাইলে, পোস্টাল ক্যাশ কার্ডে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই আইনে বলা হয়েছে, অন্যান্য আইনে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন এ আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটিত হলে মোবাইলকোর্ট আইন ২০০৯-এর অধীন মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে বিচার করা হবে। তবে এ আইনের অধীনে দেওয়া শাস্তির বিরুদ্ধে দেশে প্রচলিত বিধান মোতাবেক ঊর্ধ্বতন আদালতে আপিল করা যাবে। চলতি অর্থবছর দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে এ কার্যক্রম সংক্রান্ত এটিই প্রথম আইন বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার নানা কার্যক্রম হাতে নিলেও এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। সামাজিক নিরাপত্তা আইন-২০১৯ হচ্ছে এ সংক্রান্ত আইন, যা এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধানে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদ’ নামে একটি পরিষদ গঠিত হবে।

সদস্য হিসেবে থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, এলজিআরডিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব। এ ছাড়া এ পরিষদের সদস্য সচিব হবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার)। এই পরিষদ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জীবনচক্র কাঠামো অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণকরণের নিমিত্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য পর্যালোচনা করে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিহ্নিত দুর্বলতা ও ত্রুটিসমূহ সংশোধন ও পরিমার্জনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও বিশেষ আর্থিক অনুদান উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা পদকসহ অন্যান্য উপায়ে স্বীকৃতি দেবে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদ।

আইনের অধীনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে অন্য সচিবদের নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসিএসএস) থাকবে। এ কমিটি বছরে দুটি সভা করবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা সামাজিক নিরাপত্তার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়াতে বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রমের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয়ে পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার গঠিত হবে। সামাজিক ভাতা ক্লাস্টার, খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহায়তা ক্লাস্টার, সামাজিক নিরাপত্তা ক্লাস্টার, শ্রম ও জীবিকায়ন ক্লাস্টার, মানব উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ক্লাস্টার।

ক্লাস্টারগুলো প্রতি তিন মাস অন্তর একটি সভা করে সভার কার্যবিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে। যেসব মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ভাতা দেওয়া হয়, সেসব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সমন্বয়ে গঠিত হবে ভাতাভিত্তিক ক্লাস্টার। সামাজিক ভাতা ক্লাস্টার এই ক্লাস্টারের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ক্লাস্টারে কাজ করবে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহায়তা ক্লাস্টার খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, কৃষি, মহিলা ও শিশু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ ও অর্থ বিভাগ থাকবে এই ক্লাস্টারে। শ্রম ও জীবিকায়ন ক্লাস্টার শ্রম ও জীবিকায়ন ক্লাস্টারে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ক্লাস্টারে থাকবে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ক্লাস্টার প্রধান সমন্বয়ক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সামাজিক বীমা ক্লাস্টার প্রধান সমন্বয়ক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সামাজিক বীমা ক্লাস্টারে কাজ করবে।