advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

২০ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৯ মে ২০১৯ ২৩:৩৭
advertisement

ভূমধ্যসাগর ও তার তীরবর্তী ভূখ-গুলোর সৌন্দর্য নিয়ে সাহিত্যে অনেক আলোচনা আছে। কিন্তু আজ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকের জীবনে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনছে। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি দিতে চায়। এদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের নাগরিক। পশ্চিমে যাওয়ার একটি প্রচলিত রুট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে উত্তর আফ্রিকায় পৌঁছে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে বা গ্রিসে পৌঁছানো। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয় বিপজ্জনক জলযানের মাধ্যমে। দালাল চক্র অর্থের লোভে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী বোঝাই করার ফলে এগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে বহু মানুষের সলিলসমাধিও ঘটছে। গত কয়েক বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে পলায়নরত শরণার্থী এবং তৃতীয় বিশ্বের ভাগ্যান্বেষী মানুষ মিলে কয়েক হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তিউনিসিয়ার উপকূলে যে নৌকাডুবি হয়েছে, তার অধিকাংশ যাত্রী ছিল বাংলাদেশের নাগরিক। আর এতে অধিকাংশ যাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। এর অর্থ দাঁড়াল বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এতে প্রাণ হারিয়েছে। তাদের সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাড়ি দেওয়ার আরেকটি রুট হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এদিকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড তাদের লক্ষ্য। তবে এদেরও শেষ পরিণতি দুঃখজনক হচ্ছে। সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের জন্য বাজার চালু রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দালাল চক্রের অসাধু তৎপরতায় সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে এবং অনেককেই প্রাণ দিয়ে ভুলের মাসুল গুনতে হচ্ছে। তা ছাড়া বৈধ পথে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ তাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে। দালাল চক্র নানা কৌশলে এদের কাছ থেকে বৈধ-অবৈধ অর্থ আদায় করছে। কিন্তু তাদের বিদেশে চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। বলা যায়, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক ধরনের অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। এর ফলে অনেক বিদেশি বাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বারবার নতুন শ্রমবাজার সন্ধান ও খোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। অথচ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সিংহভাগ আসে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির যে ক্রমোন্নতি এবং স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য, তা পূরণে শ্রমজীবীদের আয় অব্যাহত থাকা জরুরি। ফলে এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানো, আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করা এবং সবার নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দ্রুত এ দায়িত্ব সম্পাদিত না হলে জাতিকে এর খেসারত দিতে হবে চরমভাবে।

আমরা আশা করব, সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

advertisement