advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব ছোট-বড় সবার ওপর

মুফতি আবুল আহসান
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০৯:৩৬
advertisement

পবিত্র রমজানের ইবাদতের মধ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করা একটি অন্যতম ইবাদত। মূলত রোজা অবস্থায় অবচেতনভাবে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যেসব ত্রুটির কারণে রোজা ভঙ্গ না হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে, হাদিসে সদকাতুল ফিতরকে তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সদকাতুল ফিতর আরবি বাক্য। সদকা মানে দান, আর ফিতর মানে রমজানের সমাপন। ইসলামি পরিভাষায় একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়ে থাকে। সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

হজরত ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বোখারি)।

সকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত আরেকটি তাৎপর্য হলো- ঈদের আনন্দে দরিদ্রজনদেরও অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য। (আবু দাউদ শরিফ)।

এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা ছিল। তবে সর্বোচ্চ ফিতরা ছিল ২ হাজার ৩১০ টাকা। এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেজুর, কিশমিশ, পনির বা যবের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্যের ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছর ফিতরার জন্য নির্ধারিত ওজনের আটার দাম ৭০ টাকা, যবের দাম ৫০০ টাকা, কিশমিশ ১৩২০ টাকা, খেজুর ১৬৫০ টাকা এবং পনিরের কেজি ১৯৮০ টাকা ধরে ফিতরার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যে কোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। পণ্যগুলোর স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। তবে বেশি সম্পদশালী এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষে সবাই গম বা সর্বনিম্ন দামের পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিষয়টি বিবেকবর্জিত এবং হাদিস ও শরিয়তের নির্দেশনারও পরিপন্থি। এটা দায়সারা আমল বলে প্রতীয়মান হয়।

ফিতরা ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক- এমন ব্যক্তির জন্য নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফিতরা তারা নিজেরাই আদায় করবে। তবে অন্য কেউ আদায় করে দিলেও তা জায়েজ।

ইসলামি শরিয়তের হুকুম অনুযায়ী ঈদের দিন ফজরের নামাজের আগে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে তারও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। আর এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকিনকে দেওয়া উত্তম। রোজা কবুলের জন্য সদকাতুল ফেতরা দেওয়া আবশ্যক।

হজরত জারির (রা) থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (স) এরশাদ করেন, রমজানের রোজা সদকাতুল ফিতর আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব)। রোজা-সংক্রান্ত মাসআলা ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর আগে ফিদয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক। অসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে ফিদয়া আদায় করে, তবে আশা করা যায়, দয়াময় প্রভু তা কবুল করবেন। তবে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে সে ক্ষেত্রে মিরাসের যৌথ সম্পদ থেকে ফিদয়া আদায় করা যাবে না। একান্ত কেউ দিতে চাইলে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবেন।

advertisement