advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কালো কাচের ভয়ঙ্কর মাইক্রোবাস

ইউসুফ সোহেল
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ১১:৫৬
advertisement

রাজধানীতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপহরণকারী চক্র। টার্গেট- রাজধানীর অভিজাত এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি ও তাদের সন্তান। দিন বা রাত, যে কোনো সময় লোকজনের দৃষ্টি এড়িয়েই শুধু নয়, প্রকাশ্যেও তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টার্গেট করা ব্যক্তিকে। এর পর গোপন আস্তানায় আটকে রেখে লাখ লাখ টাকা পণ আদায়ের পর মিলছে মুক্তি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পরিচয়েও টার্গেট লোককে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এহেন কা-ে ব্যবহার করা হচ্ছে কালো কাচে ঘেরা মাইক্রোবাস। ফলে রাজধানীবাসীর কাছে এখন ভয়ঙ্কর ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কালো কাচের মাইক্রোবাস। এক মাসের ব্যবধানে মিরপুর ও তেজগাঁও থেকে অপহৃত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আতাউর রহমান শাহীনকে কালো কাচের মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সর্বশেষ গত রবিবার দুপুরে বনানী থেকে অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী মো. তানজির ইসলামকে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে কালো কাচের মাইক্রোবাস। তাকে অপহরণের মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয় ২০ লাখ টাকা। তানজির ইসলামের সৌভাগ্য, অপহরণের মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-১। উত্তরায় অভিযান চালিয়ে এ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাসহ ৫ সদস্যকে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী মাইক্রোবাসে কালো কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু অপরাধী ছাড়াও সাধারণ মানুষও এ আইন মেনে চলছেন না। প্রায়ই মাইক্রোবাসের স্বচ্ছ কাচ পরিবর্তন করে কালো কাচ লাগানো হচ্ছে।

২০১৩ ও ২০১৪ সালেও দেশে অপহরণ বেড়ে যায় এবং এ ক্ষেত্রে অপহরণকারীদের অধিকাংশই কালো কাচের মাইক্রোবাস ব্যবহার করায় ২০১৪ সালের ৬ মে মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহন থেকে কালো কাচ খুলে ফেলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে কালো কাচ ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনে অপরাধীরা গাড়িতে, বিশেষ করে মাইক্রোবাসে কালো, রঙিন, মার্কারি, অস্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহার করছে। বিষয়টির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম গতকাল আমাদের সময়কে জানান, গত রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বনানী এ-ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে তার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন তানজির ইসলাম। হঠাৎ দুটি মাইক্রোবাস তার সামনে থামে। এর মধ্যে একটি মাইক্রোবাস ছিল কালো কাচে ঘেরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা

তানজিরকে কালো কাচের মাইক্রোবাসটিতে তুলে তুলে ফেলে। এরপর তাকে নিয়ে চলে যায় অজ্ঞাত স্থানে। ঘটনার পর ভিকটিমের স্ত্রী তাহ্সীনা মহসিন বিষয়টি র‌্যাব ১-এ জানান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেদিন রাতেই উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৬ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত তানজির ইসলামকে। বাড়ির নিচতলার পার্কিং লট থেকে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা তুহিন মাতব্বরসহ চক্রের সদস্য ফোরকান হোসেন মাতব্বর ওরফে জিএম, আব্দুল মজিদ, আলম খান, দ্বীন ইসলাম ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৭৫৫ টাকা ও একটি হাতঘড়ি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক জানান, তারা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।

মুক্তিপণ বা চাঁদা আদায় করতে তারা রাজধানীর অভিজাত এলাকার সচ্ছল ব্যক্তিদের অপহরণ করে থাকে। তারা প্রথমে টার্গেট লোকটির গতিবিধি অনুসরণ করে। পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে টার্গেটকে একা পেলে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায় তাদের আস্তানায়। তানজির ইসলামকে অপহরণ করার ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। তুহিন মাতব্বর ও তার সহযোগীরা কয়েক দিন ধরে তার গতিবিধি অনুসরণ করে। এর পর রবিবার তাকে অপহরণ করে। মাইক্রোবাসে উঠিয়েই চক্রের সদস্যরা তানজিরকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এর পর উত্তরায় নিয়ে যায়।

তানজিরের মুক্তিপণ বাবদ তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা জানায়, পণের টাকা না দিলে তাকে খুন করা হবে। তিনি জানান, এমন আরও কয়েকটি চক্র এখন রাজধানীতে সক্রিয়। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা আমাদের সময়কে বলেন, গাড়িতে কালো কাচ ব্যবহারে যে নির্দেশনা রয়েছে সকলকেই তা মানতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় আমাদের তরফে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা অব্যাহত থাকবে।

advertisement