advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গণপূর্তের তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনে বালিশসহ আসবাবপত্র কেনায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি মুলতবি রেখেছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে শুনানি হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গতকাল সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ এ মুলতবির আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানিতে মাহবুবে আলম ওই ঘটনায় গণপূর্তের করা দুটি তদন্ত কমিটির কথা উল্লেখ করে বলেন, এরই মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি করা

হয়েছে। তারা সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রিপোর্টটা আগে আসুক। তার পর যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আদেশের পর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ফার্নিচার, বালিশসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভবনে তোলার নামে দুর্নীতির যে অভিযোগ, তা নিয়ে গত রবিবার রিট করি। আজ (সোমবার) শুনানিতে আদালত বলেছেন, গণপূর্তের প্রতিবেদন ঈদের ছুটির পর এক সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে জমা দেবে। এর পর শুনানি হবে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০ তলা ও ৮টি ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯টি ভবনে ৯৬৬টি ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০ তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা এবং তা ভবনে উঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, ওইসব ভবনের জন্য কেনা ১ হাজার ৩২০টি বালিশের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। বালিশগুলো নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা! শুধু বালিশই নয়, অন্যান্য আসবাব কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ওই ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ কেনা হয়েছে। এসবের ক্রয়মূল্য এবং সেগুলো ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক। সরকারি আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।