advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বামীর বাড়ি নয় স্কুলে যেতে চায় ছাদিয়া

পিরোজপুর প্রতিনিধি
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০২:০৮
advertisement

দশম শ্রেণির ছাত্রী ছাদিয়া ইসলাম। প্রাথমিক সমাপনী শিক্ষার সনদ অনুযায়ী বয়স-১৩ বছর, ৭ মাস। গত জানুয়ারিতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান মা। সেখানে এক যুবকের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেন। এর পর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চাইলে মারধর শুরু করেন স্বামী।

পালিয়ে বাবার বাড়ি চলে এলেও মুক্তি মেলেনি। এবার স্কুল বন্ধ করে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার জন্য নির্যাতন শুরু করেন বাবা-মা। একদিকে স্বামীর অত্যাচার, অন্যদিকে বাবা-মায়ের নির্যাতন।

তবু যেন দমে যাওয়ার পাত্রী নয় সে। হাল না ছেড়ে এ অবস্থা থেকে প্রতিকার পেতে স্বরূপকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বালিকা বধূ ছাদিয়া।

ইউএনওর কাছে দেওয়া ওই ছাত্রীর অভিযোগে জানা যায়, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির নান্দুহার ইউনাইটেড বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছাদিয়া। তার মা মরিয়ম বেগম গত জানুয়ারি মাসে তাকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে আলম মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে জোর করে ছাদিয়াকে বিয়ে দেওয়া হয়।

তারপর ছাদিয়াকে স্বামীর বাড়িতে রেখে তার মা বাড়ি চলে আসেন। সেখানে ছাদিয়া পড়ালেখার কথা বললে তার স্বামী তাকে মারধর করেন। একপর্যায় ছাদিয়া পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে এসে তার দাদা মকবুল হোসেনের ঘরে থেকে পড়ালেখা শুরু করে। স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসার কারণে তার মা মরিয়াম বেগম ও বাবা রফিকুল ইসলাম তাকে মারধর করে স্বামীর বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় ছাদিয়া তার বাবা, মা ও স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য এবং পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন জানান। ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, ছাদিয়ার অভিযোগ পেয়ে ওর বাবা ও মাকে বুধবার সকালে তার অফিসে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করেছেন।

ছাদিয়ার দাদা মকবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলে রফিকুল ইসলাম মেয়েকে (ছাদিয়া) মারধর করতেও দ্বিধা করে না। পুত্রবধূ মরিয়াম বেগমও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। অভিযোগ সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।