advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাঙামাটির রাজস্থলীতে এবার যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটি প্রতিনিধি
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

এবার আঞ্চলিক রাজনীতির জিঘাংসার শিকার হলেন পাহাড়ি উপজেলা রাজস্থলীর যুবলীগ নেতা ক্যহ্লা চিং মারমা (৪০)। অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেছে। গত রবিবার রাত পৌনে বারোটার দিকে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ হত্যাকা- ঘটে। ক্যহ্লাচিং ওই ইউনিয়নের ৮ ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। হত্যাকা-ের জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেএসএসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার সকালে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ নিজ বাসা থেকে ক্যহ্লাচিংয়ের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ কিংবা খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কাপ্তাইয়ে ব্রাশফায়ারে জোড়া খুনের

মামলায় গত ১৫ মে জামিন নিতে গিয়ে জেলহাজতে গেছেন এজাহারভুক্ত আসামি কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও জেএসএস উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সায়মং মারমা এবং চিৎমরম ইউপি চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক খ্যাইসা অং মারমা। ক্যহ্লাচিং হত্যাকা-ের পেছনে ওই ঘটনার যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঞোমং মারমা জানান, রবিবার রাত পৌনে বারোটার দিকে ১০-১২ জনের একদল অস্ত্রধারী ক্যহ্লা চিং মারমাকে খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে ক্যহ্লা চিং মারমার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

তিনি এ হত্যাকা-ের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করে বলেন, রাজস্থলী উপজেলায় জেএসএসের এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকা-ে নেই। গোপন তৎপরতা দিয়েই চলছে দলটি। সুযোগ বুঝে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে তাদের সদস্যরা। মূলত আওয়ামী লীগ করার কারণে জেএসএসের লোকজন এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে উল্লেখ করে ঞোমং মারমা বলেন, গেল ইউপি নির্বাচনের সময়ও জেএসএসের সন্ত্রাসীরা ক্যহ্লা চিংয়ের ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করে। বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তাই এটা বেশ পরিষ্কার যে, এ কাজ তারাই করেছে।

চন্দ্রঘোনা থানার ওসি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ক্যহ্লাচিংকে গুলি করে হত্যায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রতিশোধ নিচ্ছে জেএসএস : ১৪৫.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের রাজস্থলী উপজেলার জনসংখ্যা ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। ১০১টি গ্রাম আর ৯টি মৌজা নিয়ে এ উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন। সেগুলো হচ্ছেÑ ঘিলাছড়ি, গাইন্দা ও বাঙ্গালহালিয়া। এর মধ্যে ঘিলাছড়িতে সুশান্ত প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা ও গাইন্দা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান উথান মারমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সমর্থক। আর বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সন্তু লারমার জেএসএসের ঘাঁটি হিসেবেই জেলায় এ উপজেলার পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই রাজস্থলীতে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে সংগঠনটি। সর্বশেষ কাপ্তাইয়ে জোড়া খুনের ঘটনার মামলায় জড়িয়ে অনেকটা ‘কোমর ভাঙা’ হয়ে পড়ে। তাই নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রতিশোধ নিচ্ছে জেএসএস এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল চারটার দিকে কাপ্তাইয়ের রাইখালী কারিগরপাড়ায় (ভাল্লুক্যা মুখ) একদল অস্ত্রধারী ব্রাশফায়ার করে মংসিনু মারমা (৪০) ও মো. জাহিদ হোসেনকে (৩৫) হত্যা করে। আওয়ামী লীগ ও গণতান্ত্রিক ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ নিহত দুজনকেই নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। দল দুটিই হত্যাকা-ের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করে আসছে। হত্যাকা-ের পরদিন রাতে নিহত মংসিনু মারমার শ্বশুর আপ্রু মারমা চন্দ্রঘোনা থানায় হত্যামামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

চন্দ্রঘোনা থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ওই জোড়া খুনের মামলায় দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ১২ আসামি জেলহাজতে রয়েছেন।

advertisement