advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাঁচ বছরেও হদিস নেই ১৭ আসামির

মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফেনী
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের হত্যাকা-ের পর কেটে গেছে পাঁচ বছর। এ ঘটনায় নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দ-িত ১৭ আসামির কোনো হদিসই বের করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৪ মাসেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও রায়ের বিরুদ্ধে দ-িতদের আপিল শুনানির কোনো উদ্যোগ না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জসিম উদ্দিনের করা হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনীর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক ৩৯ আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন। তবে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ

চৌধুরী মিনারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ওই নথির ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত হলেই হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল শুনানি হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে কোনো অগ্রগতি নেই।

ফাঁসির দ-প্রাপ্তদের মধ্যে ২২ জন বর্তমানে রয়েছেন কারাগারে। আটজন জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক এবং ৯ জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেনÑ জাহিদ হোসেন জিহাদ, আবিদুল ইসলাম আবিদ, নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জি. রাসেল, এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান ওরফে ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলে উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহিউদ্দিন আনিস, বাবলু ও টিটু।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায়ে বলা হয়, স্থানীয় নির্বাচন থেকে আসামিদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই একরামকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকা-ের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত জিহাদ ও আবিদ প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগোচরে পালিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

আসামিদের বিষয়ে পুলিশের কাছেও কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, অন্যান্য হত্যা মামলার মতো এ ক্ষেত্রেও পলাতক ১৭ দ-িত আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। তবে শুনেছি বেশ কয়েকজন আসামি বিদেশে আছে।

এ মামলায় দ-িতদের মধ্যে কারাবন্দি ২২ জন হলেনÑ হত্যার পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর কবির আদেল, আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে সিফাত, আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে বক্কর, আজমির হোসেন রায়হান, শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু।

একরামুল হক একরামের ভাই মোজাম্মেল হক বলেন, তার ভাই হত্যার বিচারে দোষীদের উপযুক্ত সাজা ঘোষণা করা হলেও ঘটনার হোতারা পর্দার আড়ালেই রয়েছে। ফাঁসির আসামিরা যেন কোনোভাবে রেহাই না পায় সেদিকে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। একই সঙ্গে রায় দ্রুত কার্যকর করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।