advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাদারীপুরে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা স্কুলছাত্রীকে

মাদারীপুর প্রতিনিধি
২১ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০০:৪৬
advertisement

মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা ও তাকে ভ্যান্টিলেটর দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার রাতে। রাতেই ওই ছাত্রী আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পুলিশ লাইন্সের সদস্য মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে ভাড়া বাসায় থাকেন। কয়েক দিন আগে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এই সুযোগে রবিবার রাতে প্রতিবেশী ওই ছাত্রীকে কাজ আছে বলে ঘরে ডেকে নেন মোক্তার। তার পর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধর করেন। ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে বাসার দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে সদস্য মোক্তার হোসেন ছাত্রীকে বাসার পেছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এতে ওই ছাত্রী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, মোক্তার কাজের কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধর করেন। স্থানীয়রা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে তিনি তাকে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এর আগে মোক্তার তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যে ওই মেয়েকে নিয়ে থাকায় সন্দেহ হলে তারা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মফিজুল ইসলাম লেলিন জানান, মেয়েটির পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেরে উঠতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে।

অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুধু শুধু স্থানীয়রা বাইরে থেকে তার বাসার দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ের সঙ্গে তার কিছুই হয়নি। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে পুলিশ সুপার বা ওসির সাহায্য নেননি কেন? এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি মোক্তার।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমি সদর হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। মেয়েটি জানিয়েছে, পুলিশ সদস্য তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ওই ছাত্রীর পরিবারকে সব আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারও তদন্ত গুরুত্বসহকারে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এদিকে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেনকে পুলিশলাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

advertisement