advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এ থেকে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নেওয়া যায়

২১ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০০:৪৭
advertisement

ভারত হলো বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিকংং দেশ। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। এবার দীর্ঘতম সময় অর্থাৎ মাসাধিক কালজুড়ে সাত দফায় ৫৪২ আসনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত আছে। ১৯ মে ভোটগ্রহণ শেষে আগামী ২৩ মে থেকে ফল দেওয়া শুরু হবে। তবে শেষ পর্বের ভোট শেষে এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত ভোটের হিসাব প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। এটা হলো ভোটদাতাদের মৌখিক জবাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক একটি ধারণা, যা মূল ফলের আভাস হিসেবে গণ্য হয়। তবে সব সময় এমন পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তবের মিল হয় না। ২০০৪ সালে বুথ ফেরত হিসেবে ভাবা হয়েছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু এসেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ। এবার ভোটযুদ্ধে কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দেয়নি। ব্যক্তিগত কুৎসা প্রচারণায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণœ করেছে। তা ছাড়া নির্বাচনী হাঙ্গামাও বিস্তর ঘটেছে।

১৯ মে রাত থেকেই বুথ ফেরত জরিপের যত ফল প্রকাশ হতে শুরু করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট আবারও ক্ষমতায় আসবে। তবে তাদের জোটগত ও দলগত উভয় প্রকার আসনই কমবে। তাতে ক্ষমতা ধরে রাখা এবং নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্ব ঠেকে থাকবে না। প্রচারের সময় থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, এবার হিন্দি বেল্ট অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখ-, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও ঝাড়খ-ে বিজেপির আসন কমবে। বিজেপিও এই আশঙ্কা থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের সব রাজ্য এবং দক্ষিণে আসন বাড়ানোর অভিযানে নেমেছিল। গতবার বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল। কিন্তু সব জরিপেই দেখা যাচ্ছে, এবার তারা এ রাজ্যে দশের বেশি আসনে জয়ী হবে।

মোদি একজন বিতর্কিত জনতুষ্টিবাদী নেতা। আর মূলে কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের সমর্থক। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে গঠিত ভারতবর্ষে তার শাসন জাতীয়ভাবে সামাজিক বিপর্যয় নিয়ে আসছে। হিন্দু ব্যতীত মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর জন্য ভারতবর্ষ আর নিরাপদ থাকছে না, গরু লালন-পালন, বেচাকেনা এখন হিন্দুত্ববাদীদের দাপটে সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, এর মাংস ভক্ষণ দূরের কথা। ভারতের প্রকৃত হিতৈষীরা তাই মোদিকে সমর্থন জানাতে পারেননি। তবে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তার আমলে চমৎকার পর্যায়ে রয়েছে। আসামের নাগরিক পঞ্জি নিয়ে সেখানকার মুসলিম নাগরিকদের সংকট বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা সহজে কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। আর তাই দুই দেশের সম্পর্ক আপাতত ভালোই থাকবে বলে মনে হয়।

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশের নেতা হিসেবে বিশ্ব রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা কিন্তু গত পাঁচ বছরে তৈরি হয়নি। ট্রাম্প, পুতিন, শি জিন পিং প্রমুখের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ও দহরম-মহরম থাকলেও একজন বিশ্বনেতা হিসেবে কোনো ভূমিকা তিনি নিতে পারেননি। মোদির মতো একজন বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘকাল ভারতের মুখ হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত থাকলে তা আখেরে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য ক্ষতিকরই হবে বলে মনে হয়।

এত বড় নির্বাচনীযজ্ঞ সাত দফায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং তার পর শান্তিপূর্ণভাবে ফল প্রদান সত্যিই দক্ষতার ব্যাপার। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মীরা এ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতেন। আমাদের এ নিয়ে আরও অনেক শেখার আছে। কেবল ভারত নয়, আরও উন্নত গণতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।