advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামির জামিন জালিয়াতি ধরা পড়ল হাইকোর্টে

২১ মে ২০১৯ ০১:১৭
আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০১:১৭
advertisement

জোড়া খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল মোয়াজ্জেম হোসেনের। কিন্তু বিচার শুরুর পর থেকেই এ আসামি ছিলেন পলাতক। নিম্নআদালতের রায় ঘোষণার প্রায় ২২ বছর পর ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং জামিন চান। চলতি বছর হাইকোর্ট তার জামিন না দিয়ে আবেদন খারিজ করে দেন। এর পর মামলার নথিপত্র জাল করে হাইকোর্টের অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চে জামিন চাওয়া হয় মোয়াজ্জেম হোসেনের। গত মাসে ওই বেঞ্চ আসামিকে জামিন দেন। মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও জাল নথি দাখিল করে জামিন হাসিলের বিষয়ে তথ্য পান রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জাহিদ সারওয়ার কাজল। এর পরই তিনি নথি পর্যালোচনা করে বিষয়টি বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নজরে

আনেন। হাইকোর্ট গতকাল সোমবার মোয়াজ্জেমের জামিন বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে বুধবারের মধ্যে আদালতে হাজির করতে মাগুরার পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাহিদ সারওয়ার কাজল।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে মাগুরায় আসাদুজ্জামান ও হান্নান নামে দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পরের বছর আসামি মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। পলাতক আসামি মোয়াজ্জেম ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ আত্মসমর্পণ করেন। এর পর একই বছর সাজা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন (নং ৯৩৩১/২০১৭) এবং জামিন চান। ওই আপিলের ওপর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এর পর মিথ্যা তথ্য ও মামলার সকল নথি জাল করে হাইকোর্টে আরেকটি ফৌজদারি আপিল (নং ১০৮৪/২০১৯) দায়ের করা হয় তার পক্ষ থেকে। এই আপিলেও তিনি জামিন চান। গত ১৭ এপ্রিল হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পেয়ে আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর পরই ডিএজি জাহিদ সারওয়ার কাজল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জামিন পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি দুটি আপিলের নথি পর্যালোচনা করেন। নথি পর্যালোচনায় দেখতে পান, ১৯৯৫ সালের ২১ নভেম্বর মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ জোড়া খুনের মামলায় মোয়াজ্জেমকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় দেন। কিন্তু এ রায় প্রদানের তারিখ বদলে জাল নথি দাখিল করেছেন আসামি। সেখানে বলা হয়েছে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর তাকে দ- দিয়েছেন দায়রা আদালত। এ ছাড়া মামলার এজাহার, সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখও পাল্টে দেওয়া হয়েছে আপিলে। এভাবে মিথ্য তথ্য প্রদান ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। বিষয়টির ওপর গতকাল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন।
ডিএজি বলেন, এটা একটা ভয়াবহ জামিন জালিয়াতি। আসামি জাল কাগজ দিয়ে যেভাবে জামিন হাসিল করেছেন, সেটা গুরুতর অপরাধ।