advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আসছে দুই লাখ ২৭শ কোটি টাকার এডিপি

২১ মে ২০১৯ ০১:১৮
আপডেট: ২১ মে ২০১৯ ০১:১৮
advertisement

স্বাধীনতার পর এবারই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দের রেকর্ড হতে যাচ্ছে। এত বড় আকারের এডিপি আর কোনো বছরেই রাখা হয়নি। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ দুই লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) উত্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া প্রস্তুত করেছে। এনইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়বে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা

থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপি করা হয় এক লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকার। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বাড়বে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে এডিপির আকার বাড়ানো হচ্ছে। মানুষের দুয়ারে সেবা পৌঁছে দিতে যেসব প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন তা-ই নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে গ্রামের মানুষের কাছে শহরের সব সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নতুন এডিপিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খসড়া এডিপির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিবহন খাতে। এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এ ছাড়া অগ্রাধিকার বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।