advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন দুষ্টের পালন শিষ্টের দমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০১৯ ১১:২৩

ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা ‘ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধ-সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’র ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, এই প্রজ্ঞাপন দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন। যারা ব্যাংক লুট করে নিয়ে গেছে তাদেরই দুধ-কলা দিয়ে পোষার চেষ্টা। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আরও এক লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ঋণখেলাপিদের পক্ষ নেয়? ‘গণছাড়’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই নীতিমালার কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ ওই স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

advertisement

আদালত বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবসাবান্ধব নয়, সুদখোরদের ব্যাংক হয়ে গেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই আমাদের দেখার বিষয়। এর আগে গত ১৬ মে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গত ২০ বছরে কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপিদের তালিকা; কী পরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে; এ ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার তথ্য ২৪ জুনের মধ্যে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদন দাখিলে আরও সময় চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন করলে তাদের হুশিয়ার করে হাইকোর্ট বলেন, তালিকা দাখিল না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। ওই দিনই সন্ধ্যায় ‘ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধ-সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করছেন না, তাদের জন্য বড় সুবিধা চালু করা হয়।

বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে ঋণ শোধ করতে পারবেন খেলাপিরা। নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন তারা। আর যারা এক বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করে দিতে চান, তারা চাইলে তহবিল খরচের সমান সুদ (সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ) দিয়েই তা করতে পারবেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে গত রবিবার হাইকোর্টে ওই প্রজ্ঞাপন যুক্ত করে সম্পূরক আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। গতকাল শুনানিতে তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনটা অসদুদ্দেশ্য থেকে করা হয়েছে। এটা কোর্টের সঙ্গে প্রতারণা।

ঋণ রিশিডিউল হয়ে গেলে ঋণখেলাপির তালিকায় কেউ থাকবে না। ঋণখেলাপি হয়েও ব্যবসায়ীরা সিআইপি মর্যাদা ভোগ করছেন। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দেশ্যই দেখা যাচ্ছে, যারা লুটপাট করছে, টাকা-পয়সা লোন নিয়ে পরিশোধ করছে না, তাদের সাপোর্ট করা। অথচ ব্যাংকের কোনো সাধারণ গ্রাহক ঋণখেলাপি হলে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়Ñ একটি অর্থ ঋণ আদালতে, অন্যটি চেক প্রতারণা মামলা।

এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এক অঙ্কের সুদ ব্যবস্থা ব্যাংকগুলো কার্যকর করতে পারল না। আদালতে বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান। ব্যাংকিং খাতে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলোয় ব্যাংক ঋণের ওপর সুদ মওকুফের বিষয়ে তদন্ত এবং তা বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিশন গঠনের অনুরোধ জানিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইআরপিবি) জানুয়ারিতে রিট করে।

হাইকোর্ট ১৩ ফেব্রুয়ারি ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়। এর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণখেলাপির তালিকা দাখিল না করায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ দিনের মধ্যে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।