advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আত্মহত্যার চেষ্টা বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২২ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০১৯ ০৯:০১

মধুর ক্যান্টিনে গত ১৩ মে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সংগঠনটির গত কমিটির সদস্য জারিন দিয়া। গত সোমবার রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে তিনি বাসায় ফেরেন।

রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, বহিষ্কারের ক্ষোভ থেকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দিয়া।

advertisement

দিয়ার বহিষ্কারের বিষয়ে লিপি বলেন, ‘ওইদিন মধুর ক্যান্টিনে হামলায় দিয়াও আহত হন। ছাত্রলীগে পদ না পেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে সেদিন তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ওপর তার ক্ষোভ থাকতেই পারে। ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা তার বহিষ্কার মানি না।’

জারিন দিয়া বলেন, ভালোবাসার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে হয়তো অনেক বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি। আমি খুব সাধারণ একজন কর্মী। কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না কোনোদিন। একটা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে হয়তো আজ অনেক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছি। পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি বলে স্ট্যাটাসটা দেইনি। আসলে জমে থাকা কষ্টগুলো ভেতরে আর রাখতে পারিনি। সত্যি অনেক পরিশ্রম করেছিলাম।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় জারিন দিয়াকে। এর তিন ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর প্রতি কিছু প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া এবং তার পরের কিছু ঘটনা উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে দিয়া লেখেন, ‘আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করব। আমি যদি মারা যাই, শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে।’

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখ্যান পদবঞ্চিতদের মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটির নতুন কমিটির পদবঞ্চিতরা। হামলার শিকার গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, এটি প্রহসনের সিদ্ধান্ত। যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, সেটিও লোক দেখানো। তদন্ত কমিটির কেউ আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। এটি মনগড়া ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার সিদ্ধান্ত।

মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব। তিনি বলেন, হামলায় জারিন দিয়া আহত হয়েছে, আবার তাকেই বহিষ্কারও করা হলো। আমরা এর নিন্দা জানাই।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান বলেন, এটি হাস্যকর সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশ পেয়েছে। জারিন দিয়া ওইদিন আহত হলো, অথচ তাকেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার যে সালমান সাদিককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো, সে আরও আগে থেকেই ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত। আসলে সবই লোক দেখানো, তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার ঘটনায় সংগঠনটির পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।