advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিএসটিআই দায়িত্ব পালন করছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০১৯ ০৯:০৮

গোখাদ্য, দুধ, দই ও বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর উপাদান থাকায় বিএসটিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, অন্যের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আপনারা। নিজেরা কেন পরীক্ষা করেন না? কেন এত দিনেও পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে পারলেন না! কাজ করার দায়িত্ব নিয়েছেন কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন না। আপনাদের পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হচ্ছে না কেন? শুধু এসি রুমে বসে থাকবেন, তা হবে না। আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু আপনারা পারছেন না কেন?

ওইসব খাদ্যের ওপর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) পরীক্ষা নিয়ে বিএসটিআইর আইনজীবী প্রশ্ন তুললে গতকাল মঙ্গলবার এভাবেই উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ। এর আগে এনএফএসএলের প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীর বক্তব্য শোনেন আদালত।

advertisement

পরে ঢাকাসহ সারাদেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুধজাত খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক ও সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে, তা জরিপ ও নিরূপণ করে একটি তালিকা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে প্রতিবেদন দাখিল করেতে বিএসটিআইকে ফের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম ও বিএসটিআইর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এমআর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আর্থিক সহায়তায় গোখাদ্য, দুধ, দই ও বাজারে থাকা প্যাকেটের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে এনএফএসএল জরিপ চালায়। এতে বাজারে থাকা কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার ৯৩টিতেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যায়। প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার (দেশি ২১ ও আমদানি ১০টি) মধ্যে ১৭টিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যায়।

এ ছাড়া দইয়ের ৩৩টি নমুনার ১৭টিতে টিপিসি, ৬টিতে পলিফরম কাউন্ট, ১৭টিতে ইস্ট/মোল্ড এবং একটিতে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা মেলে।

পশু খাদ্যের ৩০টির মধ্যে ১৬টিতে ক্রোমিয়াম, ৪টিতে আফলাটক্সিন, ২২টিতে টেট্রাসাইক্লিং, ২৬টিতে এনরোফ্লক্সাসিন, ৩০টিতে সিফরোফ্লক্সাসিন এবং ২টিতে পেস্টিসাইট (এন্ডসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া যায়। এই রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের পর হাইকোর্ট গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল ও আদেশ জারি করেন। ঢাকাসহ সারাদেশে দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও গোখাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কিটনাশক এবং সিসাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো রয়েছে এবং কোন কোন কোম্পানির দ্রব্যে এগুলো কী পরিমাণে রয়েছে তা নিরূপণ করে একটি জরিপ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বিএসটিআইর চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিকে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী গত ৮ মে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে কোন কোন কোম্পানির দুধে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে তা উল্লেখ না করায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে কোম্পানিগুলোর নাম-ঠিকানা দাখিল করতে বলেন। হাইকোর্টের নিদের্শনা অনুসারে গতকাল আদালতে হাজির হয়ে এনএফএসএলের প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসী তাদের জরিপ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় বিএসটিআইর আইনজীবী এ প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শাহনীলা ফেরদৌসী জানান, ২০১৫ সাল থেকে তারা এই গবেষণা করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের ল্যাবের মান অনেক দেশের চেয়েই উন্নত। আমাদের পরীক্ষার ফল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। এই পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সেটা করা হয়েছে। গবেষণায় শুধুই তিনটি জেলার দুধ নয়, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্যও রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, স্বপ্ন অর্গানিক, আফতাব ডেইরি মিল্ক, ঈগলু ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের পণ্য সারাদেশেই পাওয়া যায়। সুতরাং বিএসটিআইর দাবি যথাযথ নয়।

তিনি বলেন, খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক, অ্যান্টিবায়োটিক, সিসার উপস্থিতি নিয়ে আইসিডিডিআরবি ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন ২০১৭ সালেও প্রকাশিত হয়েছে। তা ইন্টারনেটেই রয়েছে। শুধু একমাত্র আমাদের প্রতিবেদনেই যে ওইসব ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তা নয়। আইসিডিডিআরবি ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিএসটিআই কী করেছে তা জানা নেই।