advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এমন ভূমিকা আরও কাম্য

২৩ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:৩০

ঋণখেলাপি সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কালো থাবার মতো কামড় বসিয়েছে। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে দেশের অর্থনীতি যথাযথ শক্তিতে দাঁড়াতে পারছে না। খেলাপি ঋণের বিস্তার ঘটার পেছনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশও অজানা বিষয় নয়।

এ অবস্থায় খেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচুর আনুকূল্য দিয়ে একটি বিধান জারি করেছে। এতে বলা হয়, ঋণখেলাপি ব্যক্তি মোট ঋণের ২ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে এটি পুনর্তফসিল করিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে শোধ করতে পারবেন। এতে একটি অসম সুযোগ হলো। কারণ যারা ভালো ঋণগ্রহীতা, তারা তো ১২-১৫ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে কম সময়ে ঋণ পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

advertisement

অথচ যারা খেলাপি হয়েছেন, তারা পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। উচ্চ আদালতে প্রবীণ এক আইনজীবী বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনের স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, এই প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’। আদালত আরও বলেন, যারা ব্যাংক লুট করেছে, এটি তাদেরই দুধকলা দিয়ে পোষার ব্যবস্থা করবে এবং এই ফাঁকে বাংলাদেশ থেকে আরও এক লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। পাচার হওয়া ঋণের টাকা উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ২৪ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের উচ্চ আদালতকে জনস্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিতে হচ্ছে।

দেশীয় বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জিনিস মেশানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বহুদিন ধরে। ইতোমধ্যে বিএসটিআই প্রায় ৫২টি পণ্যে ক্ষতিকর ভেজাল মেশানোর নিদর্শন পেয়েছে। কিন্তু পণ্যদ্রব্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারে অনেক সময় যাচ্ছে। তা ছাড়া এর মধ্যে যেহেতু অনেক নামি-দামি কোম্পানি রয়েছে, সেহেতু আশঙ্কা রয়েছে, তারা গণমাধ্যমের ডামাডোল স্তিমিত হলে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। উচ্চ আদালত বিএসটিআইকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষারোপ করেছেন এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে, এ কথা সত্য। কিন্তু দুর্নীতি, লুটপাট এবং মানুষের জীবনের বিনিময়ে ব্যবসা ও মুনাফা করার মনোভাব এখনো রয়েছে। সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে, মূল্যবোধের সংকট গভীর হচ্ছে। রাজনীতি বা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ, বরং কখনো কখনো অপকর্ম ও অত্যাচারের সহযোগী হচ্ছে। তবে মানবসম্পদ ও সামাজিক অঙ্গনে উন্নয়ন ছাড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন টেকসই হবে না। দেশের এই কঠিন বাস্তবতা উত্তরণে উচ্চ আদালতের অভিভাবকসুলভ ইতিবাচক ভূমিকা মানুষের মনে আশার সঞ্চার করছে। মানুষের শেষ আশ্রয় ও ভরসা উচ্চ আদালত। এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ ধরনের বলিষ্ঠ সময়োচিত ভূমিকা আরও কাম্য।