advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ১৩৪৬ কোটি টাকা

আজিজুল হক,বেনাপোল
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:৪৩
advertisement

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্যে চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১ মাসে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রয়েছে বাণিজ্য তদারকিতে নিয়োজিত সংস্থ্যাগুলোর মধ্যে পরস্পরের সমন্বয়ের অভাব। এতে ব্যবসায়ীরা এ পথে বাণিজ্যে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সরকারের যেমন রাজস্ব আয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি লোকশান গুনেছেন ব্যবসায়ীরাও।

তারা মনে করছেন, হয়রানি বন্ধ আর বৈধ সুবিধা নিশ্চিত হলে আবার গতি ফিরবে বন্দরে। অন্যদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, অনিয়মন বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় আমদানি কমেছে, এটিই রাজস্ব ঘাটতির কারণ। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধাগুলো বাড়াতে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হয়ে কাজ করছেন। জানা যায়, দেশে ২৩ স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১৩ বন্দরের সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব দেয় বেনাপোল বন্দরের কাস্টমস হাউস।

১৯৭২ সাল থেকে এ পথে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যাত্রা। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে, যা থেকে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। বন্দরে আমদানিপণ্যের ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার টন কিন্তু এখানে সার্বক্ষণিক পণ্য থাকে প্রায় দেড় লাখ টন। বর্তমানে বন্দরে ২৮টি পণ্যগার, ৮টি ওপেন ইয়ার্ড, একটি ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল, একটি রপ্তানি ট্রাক টার্মিনাল ও একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।

তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এতে ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটিত রয়েছে এক হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে সবাই ব্যবসা করতে চান। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় সুষ্ঠু বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সপ্তাহে সাত দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল পাচ্ছেন না। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।

এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জয়েন্ট কমিশনার শহীদুল ইসলাম জানান, অবৈধ সুযোগ-সুবিধা বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্যের চালান কম আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। তবে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন তা পূরণের। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতেও তারা আন্তরিক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক প্রদোষ কান্তি দাস বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে বন্দরে সব ধরনের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছি। জায়গা সংকটে বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও উন্নয়নকাজ শুরু করেছেন। সম্পূর্ণ হলে বেনাপোল বন্দরে সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য পরিচালনায় ব্যবসায়ীদের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।

advertisement