advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আস্থাহীনতায় তারল্য সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:০৭
advertisement

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট চলছে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া সম্প্রতি খেলাপিদের গণছাড় দিয়ে জারি করা বিশেষ নীতিমালা এ সংকটকে প্রকট করবে। আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ কমে যাচ্ছে। ঋণপ্রবাহও কমছে। তবে ঋণের তুলনায় আমানত বেশি কমছে। এ জন্য তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় সুদহার অনেক কম। মাত্র ৬ শতাংশ। এটি মূল্যস্ফীতির কাছাকাছি। প্রকৃত হিসাবে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখলে কোনো আয় আসবে না- কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে আয় আসবে তার তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি। ফলে ক্রয় ক্ষমতার বিবেচনায় জমা রাখা অর্থের মূল্য আগের তুলনায় কমে যাবে।

এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদহার অনেক বেশি। ব্যাংকগুলো সুদহার ৬ শতাংশ হলেও সঞ্চয়পত্রগুলোয় প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে মানুষ ব্যাংকের পরিবর্তে সেখানে টাকা রাখছে। বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাত মাসেই তা অর্জন হয়েছে। বাজেট সংশোধন করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর সাম্প্রতিককালে ব্যাংকগুলোয় নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এর কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত জমা রাখা অর্থ চূড়ান্তভাবে ফেরত পাওয়া যায়নি এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে সময়মতো ফেরত না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যার প্রভাব আমানতকারীদের ওপর পড়ছে।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি পুনঃতফসিলের যে বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়েছে-এর প্রভাবেও তারল্য সংকট হতে পারে। যে ঋণের অর্থ দুয়েক বছরের মধ্যে ফেরত পাওয়া যেত এখন তা ফেরত পাওয়া যাবে আগামী ১০ বছরে। এ ছাড়া খেলাপি হলে সুবিধা বেশি, খেলাপি হলে সুদহার ৯ শতাংশ আর ভালো গ্রাহকদের তা ১২/১৩ শতাংশ। এ জন্য ভালো গ্রাহকরা ঋণ ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে তারল্য সংকট তৈরি করবে।