advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তারেকের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:১৪
advertisement

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও তাতে স্বাক্ষর করেননি। বরং উপ-নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি নাখোশ। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সংসদ শুরুর প্রথম দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় তার আসন শূন্য হয়ে যায়।

আগামী ২৪ জুন এ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার আমাদের সময়কে জানান, বেগম জিয়ার কাছে মনোনয়নপত্র পাঠানো হলেও তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। তিনি নির্বাচনে করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। অবশ্য বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নিতে বাকি চার নেতা জিএম সিরাজ, মাহবুবুর রহমান, রেজাউল করিম বাদশা ও জয়নুল আবেদীন চাঁন মনোনয়পত্র জমা দেবেন আজ।

বিএনপি সূত্র জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকালে বিএনপি চেয়াপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র দেখেই ক্ষুব্ধ হন। একজন অরাজনৈতিক দূত মারফত তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিলো? আমি তো কিছুই জানি না। আমাকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি?’ এদিকে খালেদা জিয়া সম্মত না হওয়ায় এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে আগ্রহী নন, সেখানে দল যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই বগুড়া নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে বলে জানা গেছে। বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া তার দলের নেতাদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে রাজি ছিলেন না। এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও তিনি কারাগার থেকে দিয়েছেন। কিন্তু এর পরও তার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং তা তার কাছে পাঠানো কীভাবে সম্ভব হলো?’

এদিকে সপ্তাহখানেক ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠিক হবে কি-না জানতে চান। তবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। যদিও দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। সে অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেন। খালেদা জিয়াসহ দলের ৫ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

অবশ্য গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আমাদের সময়কে জানান, বগুড়া উপ-নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়ার বিষয়টি তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন। এ সংবাদে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেননা স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পরও তাদের কাছে কোনো মতামত জানতে চাননি তারেক রহমান।