advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রথম দিনেই রেলের টিকিটে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:১৫
advertisement

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে বিক্রিপর্ব। এবারই প্রথম ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয় রেলসেবা নামের অ্যাপের মাধ্যমে। আবার যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলস্টেশনের বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়।

কিন্তু তারপরও ভোগান্তি এড়াতে পারেননি টিকিট প্রত্যাশীরা। ‘রেলসেবা’ নামের ওই অ্যাপে লগইন করতে না পারা, টিকিট কিনতে না পেরে আবার লাইনে দাঁড়ানোসহ নানা কারণে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের কাছ থেকে। একই অবস্থা হয়েছে চট্টগ্রামেও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারই প্রথম ই-টিকিটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে অনুযায়ী গতকাল সকাল ৯টা থেকে কাউন্টারগুলোয় ৩১ মের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

কিন্তু সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারছেন না বলে অভিযোগ আসতে থাকে। এই অবস্থায় ই-টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে অনেকেই ছুটছেন কমলাপুর স্টেশনের দিকে। সেখানে কাউন্টারে আগের রাত থেকে অপেক্ষমাণ টিকিটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। ফলে এক সময় কমলাপুর স্টেশন টিকিটপ্রত্যাশীদের চাপে আগের মতোই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। কিন্তু সার্ভারে সমস্যার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেতেও অনেক বেগ পেতে হয় যাত্রীদের।

এদিকে গতকাল সকাল ১০টার কিছু পর কমলাপুর স্টেশনে যান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সেখানে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম দেখেন এবং টিকিটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় যাত্রী ভোগান্তি ও অ্যাপের অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করেন রেলমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আর অ্যাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সিএনএসের সঙ্গে চুক্তি করা হবে না বলে জানান তিনি। যদিও মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় খুশি হতে পারেননি সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলছেন, এই অ্যাপটি চালুর পরই ত্রুটি ধরে। তখনই ব্যবস্থা না নিয়ে এখন ঈদের সময় মানুষকে দুর্ভোগে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই অনলাইনে টিকিট পেতে ভোগান্তির অভিযোগ পেয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে কমলাপুরে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের সার্ভার রুমে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দল। অভিযান শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, টিকিট বিক্রি শুরুর পর থেকেই অ্যাপটি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। গ্রাহক টিকিট কিনতে পারছেন না। অভিযানে এসেও এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এটি নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাপ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের পরিচালক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে সার্ভার ডাউন হয়ে আছে। এই উত্তরে আমরা সন্তুষ্ট নয়। আরও তদন্ত করে কমিশনের প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

দুদক দল চলে যাওয়ার পর রেলমন্ত্রী বলেন, অ্যাপ নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে। কাক্সিক্ষত সার্ভিস এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সার্বিকভাবে এটি দুঃখজনক। পুরোপুরি সার্ভিস ভবিষ্যতে বিড়ম্বনা ছাড়াই ঈদের পর প্রদান করা যাবে। রেলের অ্যাপে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে গণমাধ্যমকর্মীরা মন্ত্রীকে জানান। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে যদি টিকিট বিক্রি না হয় বা কোনো যাত্রী টিকিট না পেয়ে থাকেন, তা হলে অবিক্রীত টিকিট ২৭ মে থেকে কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

সিএনএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা ২০০৭ সাল থেকে রেলওয়েকে সার্ভিস দিয়ে আসছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সঙ্গে একটা চুক্তি আছে। ইতোমধ্যে এ চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য তারা আমাদের কাছে দরখাস্ত দিয়েছে। আমরা বলেছি, তোমাদের সার্ভিস যদি নিশ্চিত করতে পার, তখন আমরা সেটা বিবেচনা করব। এটিকে সেটিসফাই করার জন্য তারা নতুন করে মোবাইল অ্যাপ চালুর মধ্য দিয়ে সার্ভিস ডেভেলপের চেষ্টা করেছে। এটাতে যদি ব্যর্থ হয়, তা হলে আপনারা শতভাগ নিশ্চিত থাকেন, সিএনএস কোম্পানির সঙ্গে ভবিষ্যতে আর রেলের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
এটি রেলওয়ের ব্যর্থতা কিনা, তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যর্থতা তো বটেই। কেনো আমরা ব্যর্থতা ঘাড়ে নেব না। যদি সিএনএস কাক্সিক্ষত সার্ভিস না দিতে পারে, সেটা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা।

জানা গেছে, ৫টি স্থানে টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে। আজ বিক্রি হবে ১ জুনের টিকিট।

চট্টগ্রামেও ভোগান্তি টিকিট কালোবাজারি এবং ভোগান্তি কমাতে ঈদে ৫০ শতাংশ টিকিট রেলসেবা অ্যাপ ও অনলাইনে কাটার সুবিধা রাখলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের যাত্রীরাও সকাল থেকে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। তবে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ও চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা ছিল খুবই কম। সকাল থেকে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা টিকিট সংগ্রহের পর গতকাল দুপুর থেকে চট্টগ্রাম স্টেশন প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, স্টেশনে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হলে ছুটির প্রয়োজন হয়। রমজানে ছুটি ম্যানেজ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এবার অনলাইনে ৫০ শতাংশ টিকিট দেওয়ার ঘোষণায় স্টেশনে না গিয়ে বাসায় রেল অ্যাপ থেকে টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু টিকিট নিতে পারিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী আমাদের সময়কে বলেন, গতকাল চট্টগ্রাম স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ হাজারের বেশি টিকিট ছিল। বিজয় এবং মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কয়েকঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে সোনার বাংলা, সুবর্ণ এবং তূর্ণা নীশিতা ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে ছিল। রাতেও যাত্রীরা টিকিট নিতে পেরেছেন।