advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তাহাজ্জুদ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন

মুফতি আবুল আহসান
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:১৮
advertisement

পবিত্র মাহে রমজান তাহাজ্জুদ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এক দারুণ সময়। রুহানি শক্তি ও সওয়াবের পাল্লা ভারী করার জন্য ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি নফলও আদায় করতে হবে। নফল সালাত আদায়ের মাধ্যমে স্বল্পসময়েই বান্দা তার রবের প্রিয় হয়ে ওঠে। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, আমার বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। একপর্যায়ে সে আমার মাহবুব ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে যায়। (সহিহ বোখারি)।

অধিক ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজগুলোর মধ্যে রয়েছে-তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশ্ত, আওয়াবিন। এই নামাজগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ ফজিলতের দিক দিয়ে অন্যতম। সব নবী-রাসুল (স) এ নামাজ আদায় করেছেন। আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসুলকে (স) উদ্দেশ করে বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন; এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে)।’ (সূরা বনি ইসরাইল)।

এ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (স) বলেনÑ ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)। (জামে তিরমিজি)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতÑ রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন, যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন, কে আছো, যে আমায় ডাকবে? আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছ, যে আমার কাছে কিছু চাইবে? আর আমি তাকে তা দান করব। কে আছ, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আর আমি তাকে ক্ষমা করব? (বোখারি ও মুসলিম)।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলের (স) ওপর তাহাজ্জুদ ফরজ ছিল। তাই সারাজীবন তিনি এ নামাজ আদায় করে গেছেন। তবে উম্মতের জন্য এটা সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ সওয়াব হাসিল হবে; কিন্তু আদায় না করতে পারলে গুনাহ হবে না। রমজান মাস ও অন্যান্য সময় সালাতে তাহাজ্জুদ রাতের দ্বিপ্রহরের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। যদি রাতের গভীরে নিদ্রা থেকে জাগার ক্ষেত্রে মনে শঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা যাবে। তবে শেষ রাতে আদায় করলে অধিক সওয়াব অর্জন হয়।

রাসুল (স) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত আদায় করতেন। রোজাদার যদি সালাতে তাহাজ্জুদ আদায় করে মহান রবের কাছে গুনাহের স্মরণ করে মাফ চান, তবে রহমানুর রাহিম দয়াময় প্রভু তার সব গুনাহখাতা মাফ করে দেন। যারা রমজানে তাহাজ্জুদ আদায় করেন এবং অন্যকেও উৎসাহিত করেন, তারা আল্লাহর অশেষ রহমত লাভ করেন। রাসুল (স) বলেছেন,  আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগান। অতঃপর তিনি (তার স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তা হলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেন। (আবু দাউদ ও নাসাঈ)।

অন্য এক হাদিসে রাসুল (স) এরশাদ করেন, মুসলমানদের মধ্যে কোরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী এবং তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন। (বায়হাকি)।

রোজাসংক্রান্ত মাসআলা একটি রোজার জন্য দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখতে হবে। কোনো কারণে ধারাবাহিকতা ছুটে গেলে ফের নতুন করে রোজা রাখতে হবে। পেছনের রোজাগুলো কাফফারার হিসাবে ধর্তব্য হবে না। তবে মহিলাদের ঋতুস্রাবের কারণে ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে অসুবিধা নেই।