advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডাক্তারের চেম্বারে যুবলীগ নেতার তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:৩১
advertisement

সিরিয়াল দিতে দেরি হওয়ায় দলবলসহ এক চিকিৎসকের চেম্বার ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী জেলা যুবলীগের শীর্ষ এক নেতা তার দলবল নিয়ে এ হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর লক্ষ্মীপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা যুবলীগের এক নেতা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারঘাট এলাকার এক রোগীকে দেখানোর জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে পাঠান।

এ জন্য যুবলীগ নেতা চিকিৎসককে ফোনও দেন। ফোনে চিকিৎসক বেলাল হোসেন কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু ইফতারির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে জেলা যুবলীগের ওই নেতা ১৪-১৫ সহযোগী নিয়ে পপুলারে ডা. বেলাল হোসেনের চেম্বারে যান। তার রোগীকে কেন বসিয়ে রাখা হয়েছে, জানতে চেয়ে নিজেই চেম্বারের বাইরে সিরিয়ালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারী শিমুলকে (৩৪) লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান।

শিমুল মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে অন্য কর্মচারীরা তাকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন। যুবলীগ নেতার সহযোগীরা তাদেরও লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে যুবলীগ নেতা চিকিৎসকের চেম্বারের দরজায় লাথি মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কিছুক্ষণ পর সহযোগীদের নিয়ে তিনি পপুলারের ম্যানেজার শামীম হোসেনের চেম্বারে গিয়ে ভাঙচুর চালান।

ম্যানেজার চেম্বারে না থাকায় তার দুই কর্মচারীকে মারধর করেন যুবলীগ নেতা ও তার লোকজন। প্রায় ২৫ মিনিট তা-ব চালিয়ে সহযোগীদের নিয়ে ফিরে যান তিনি। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার শামীম হোসেন জানান, যুবলীগ নেতার তা-বের সময় পুরো হাসপাতালজুড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আহত শিমুলসহ পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ডা. বেলাল হোসেন বলেন, এত বড় একজন যুবনেতা নিজেই এমন একটা ঘটনা কীভাবে ঘটাল ভাবা যায় না। তিনি আরও বলেন, তার সুপারিশ করা রোগীকে আগে কয়েকবার দেখানো হয়েছে। চেম্বারের ভেতরে কয়েকজন শিশু রোগী থাকায় যুবলীগ নেতার রোগীকে মাত্র ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। হামলার সময় তার রোগী চেম্বারের ভেতরে ছিলেন।

এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে রাজশাহী জেলা যুবলীগ সভাপতি আবু সালেহর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।