advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টিফিনে খিচুড়ি পাবে শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনা
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:৪৬
advertisement

দুপুরের ক্ষুধা নিবারণ, পুষ্টির অভাব পূরণ, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন, শতভাগ উপস্থিতি এবং ঝরেপড়া বন্ধ করতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় খুলনা অঞ্চলের ২৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৪৪ হাজার ৪৪৯ শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে।

কর্মসূচিভুক্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে-খুলনার বটিয়াঘাটা ও যশোরের ঝিকরগাছা। ১ জুলাই থেকে সপ্তাহে তিন দিন দুপুরে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিদিন বিস্কুট দেওয়া হতো। এ কর্মসূচিতে সপ্তাহে তিন দিন বিস্কুট ও তিন দিন রান্না করা খিচুড়ি সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, জনপ্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৯০ গ্রাম চাল, ২৫ গ্রাম ডাল আর ৭০ গ্রাম সবজি মিলিয়ে খিচুড়ি রান্না করে সরবরাহ করা হবে। যার মাথাপিছু বরাদ্দ ১৬ টাকা। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত, শতভাগ উপস্থিত এবং ঝরেপড়া ঠেকাতে মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১১ সাল থেকে সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুপুরে শুধু বিস্কুট সরবরাহ করা হতো। খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলার ১৪ উপজেলায় দুই হাজার ৩৪৫টি স্কুলে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী সপ্তাহে তিন দিন দুপুরে বিস্কুট খেয়ে আসছে।

বিস্কুট পাওয়া উপজেলাগুলো হচ্ছে-নড়াইলের লোহাগাড়া, সাতক্ষীরার আশাশুনি, কলারোয়া, কালীগঞ্জ, তালা, শ্যামনগর, যশোর জেলা সদর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, বাগেরহাটের ফকিরহাট, শরণখোলা ও মোড়লগঞ্জ। প্রাথমিক শিক্ষা খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মেহেরুন নেছা জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন গড়ে ৫-৭ ঘণ্টা বিদ্যালয়ে থাকতে হয়। এ কর্মসূচির ফলে দুপুরের ক্ষুধা নিবারণ হবে; পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে; স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ে উঠবে। পাশাপাশি ভর্তির হার বাড়বে, ঝরেপড়া হ্রাস পাবে।

উপস্থিতির হার শতভাগ নিশ্চিত হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে ২০১৭ সালে ঝরেপড়ার হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে ঝরেপড়ার সংখ্যা ৭ শতাংশ। বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে, দুপুরের খিচুড়ির জন্য উপকরণ মিনারেল, খনিজ মেশানো চাল, সয়াবিন, ডাল ও পাতা যুক্ত সবজি থাকবে। শিক্ষার্থীরা দুপুরে সুষম খাবার পাবে।

মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে পুষ্টির অভার দূর হবে। এর আগে দুপুরে বিস্কুট সরবরাহ করা হতো। ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা পারভিন জানান, এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এ নীতিমালার আওতায় আসবে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। তবে স্যাচুরেটেড বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ১০ শতাংশের কম রাখতে হবে।

ন্যূনতম খাদ্য তালিকাগত বৈচিত্র্য বিবেচনায় ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে, যেখানে কমপক্ষে একটি প্রাণিজ উৎস থেকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকিবফুজ্জামান বলেন, এই পদ্ধতি চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত হবে। এ প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ১৫৯ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ২০ শতাংশ। একদিকে যেমন দরিদ্র জনগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ক্ষুধা নিবারণ হবে, অন্যদিকে সবস্তরের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির অভাব পূরণ হবে। এতে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যবান জনশক্তি গড়ে উঠবে।

বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ মল্লিক জানান, উপজেলা সদরের পার্শবর্তী হেতালবুনিয়া, হাটবাটি ও কিসমত ফুলতলা গ্রামের ৩০২ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। তার মধ্যে ৫০ জন নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবারের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করা পরিবার থেকে আসা ৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। অনন্ত এদের দুপুরে আর খাবার চিন্তা থাকবে না। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা রশিদ প্রভা জানায়, দুপুরের খাবার সরবারহের খবর উৎসবের মতো আনন্দের। প্রভা রোজার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে টিফিন নিয়ে যেত। দুপুরে খিচুড়ি সরবরাহের খবর পেয়ে ইতিবাচক বলে অভিমত দিয়েছেন শিশুশিক্ষার্থী প্রভার পিতা লক্ষীপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মামুনুর রশিদ ও তার স্ত্রী রেহানা পারভীন।