advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গ্রিন লাইনের আচরণ ভালো লাগেনি হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০০:৫৭
advertisement

হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা অনেক নমনীয়ভাবে কথা বলেছি। গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ কখনো বলে নাই যেÑ আমাদের এই সমস্যা, আমরা এত টাকা দিতে পারব না। আবার রাসেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টা মীমাংসা করারও চেষ্ট করেনি। যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ আমাদের কাছে ভালো লাগেনি।’ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো রাসেল সরকারকে অর্থ প্রদানে অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ পরিবহন সংস্থাটির আইনজীবীর উদ্দেশে এ কথা বলেন।

শুনানির শুরুতে অবশ্য গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ জানান, গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়েও বলেনি। তাদের আচরণে তিনিও খুশি নন। তাই গ্রিন লাইনের পক্ষ থেকে মামলা পরিচালনা ক্ষমতা প্রত্যাহারের কথাও বলেন তিনি। পরিবহন সংস্থাটিকে আদালত সতর্ক করে দিতে পারেন বলেও মত দেন এ আইনজীবী। আদালত তখন বলেন, ‘আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার যা মত, তা করতে পারেন। আমরা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেব।’ এ সময় আদালত রাসেলের চিকিৎসার

খোঁজখবর জানতে চান। জবাবে রিট আবেদনকারী আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, ‘চিকিৎসা চলছে। বনানীর একটি ক্লিনিকে তার পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। এতে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে গত তারিখের পর গ্রিন লাইন আর যোগাযোগ করেনি।’

রাসেল হাঁটতে পারেন কিনা, আদালত জানতে চাইলে শামসুল হক রেজা বলেনÑ ‘পুরোপুরি হাঁটতে পারেন না, ক্রাচে ভর দিয়েই হাঁটতে হয়। রাসেল যেখানে চাকরি করতেন, চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে ঋণ নিয়েছেন। গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়ার প্রক্রিয়া করছে, যা গণমাধ্যমে এসেছে।’ আদালত তখন গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ ভালো লাগেনি উল্লেখ করে বলেন, ‘তার পরও তাদের অনুপস্থিতিতে আমরা আজ আদেশ দিতে চাই না। প্রয়োজনে রুল শুনানির পর যা করার দরকার তাই করব।’ তখন আদালত গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাকে বলেন, ‘আপনি যেহেতু এখন পর্যন্ত তাদের আইনজীবী আছেন, আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। নমনীয়তাকে দুর্বলতা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। অবকাশকালীন ছুটির পর এ মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য রাখছি।’ এর পর আদালত ২৫ জুন পরবর্তী আদেশের তারিখ ধার্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয় গ্রিন লাইন পরিবহন কোম্পানি। একই সঙ্গে তাদের সময় আবেদন মঞ্জুর করে বাকি ৪৫ লাখ টাকা ৩০ দিনের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া দেশের মধ্যে যেখানে কৃত্রিম পা সংযোজনসহ ভালো চিকিৎসা হয়, সেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। কিন্তু ওই সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি টাকা আর পরিশোধ করেনি গ্রিন লাইন।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গ্রিন লাইন পরিবহনের ড্রাইভার তাকে চাপা দেয়। পরে রাসেল সরকারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। গত বছরের ১৪ মে এ রিটের প্রাথমিক শুনানি করে রাসেলকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করা হয়। পরে চূড়ান্ত শুনানি করে গত ১২ মার্চ রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে পরিবহন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে গেলেও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

advertisement