advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গরমে কাটতি বেশি সুতি পাঞ্জাবির

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:৪৮
advertisement

বাঙালির যে কোনো উৎসবেই ছেলেদের প্রিয় পোশাক পাঞ্জাবি। আর ঈদ হলে তো কথাই নেই। তালিকায় জিন্স, টি-শার্ট, শার্ট থাকলেও পাঞ্জাবিটা যেন বাধ্যতামূলক। এবারও ব্যতিক্রম নয়। তাই রোজার শুরু থেকেই রাজধানীর ফ্যাশন হাউসগুলোতে তোলা হয়েছে বৈচিত্র্যময় পোশাক।

এবারের ঈদ গরমকালে হওয়ায় সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি বেশি চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্রাশু কটন, পেঁয়াজ কটন, চিনিগুড়া কটন, ফেন্সি কটনের মতো বিভিন্ন আরামদায়ক কাপড়ের ওপর হাতের সেলাই, জমকালো অ্যামব্রয়ডারি ও পাথরের কাজ করা পাঞ্জাবির চাহিদাই বেশি। পাশাপাশি যারা একটু সাধারণের মধ্যে আরামদায়ক পোশাক খুঁজছেন তারা স্যাডন, ইউনিটিকা কাপড়ের পাঞ্জাবি কিনছেন। হালকা সুতির ওপর ছাপা আর গলায় সামান্য কাজ করা এ ধরনের পাঞ্জাবির কাটতিও কম নয়।

আবার গত বছরের মতো এবারও অভিজাত বিপণিবিতান ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে রাজত্ব করছে কাবুলির সেট। একটু ঢিলেঢালা হওয়ায় গরমে পরতে বেশ আরামদায়ক এটি। রাজধানীর গুলিস্তান, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, বেইলি রোড, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিংমল ও যমুনা ফিউচারপার্কসহ ছেলেদের বেশকিছু নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বঙ্গমার্কেট কমপ্লেক্সের বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতানের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, ব্রাশু কটনের ওপর জলছাপ, হাতের কাজ করা, বুকের এক পাশে কারচুপি বা অ্যামব্রয়ডারির ডিজাইন থাকা পাঞ্জাবির বিক্রি বেশি। সেমি লং ও লং-দুই প্যাটার্নেই পাওয়া যাচ্ছে এগুলো। দাম ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। সাডন কটনের ছাপা পাঞ্জাবির দাম ৩৮০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

পীর ইয়ামেনি মার্কেটের সিফাত পাঞ্জাবির ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, ব্রাশু কটনের ওপর জমকালো কারচুপির কাজ করা ভারতীয় ‘মহিশুর’ ডিজাইনের পাঞ্জাবির বিক্রি বেশি। এগুলোর দাম ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফেন্সি কটনের ওপর ভারতীয় ডিজাইনে অ্যামব্রয়ডারি ও পাথরের কাজ করা পার্টি টাইপ পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

এদিকে বরাবরের মতো সাদা ও অফ হোয়াইট রঙের নরম ধুতি কাপড়ের (পাতলা সুতি) ও ইউনিটিকা কটনের পাঞ্জাবি-পায়জামার বিক্রি বেশ ভালোই জানালেন পীর ইয়ামেনি মার্কেটের মায়ের দোয়া পাঞ্জাবি বিতানের কর্ণধার মোকলেসুর রহমান। দাম ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরেও জানা গেছে একই কথা। ইয়োলো, জেন্টল পার্ক, এক্সটাসি, সেইলরসহ ধানম-ির বেশকিছু ব্র্যান্ডশপ ঘুরে জানা গেলো-ঈদে গতানুগতিক সাদা আর লাল রঙ থেকে বেড়িয়ে আসছেন তরুণরা। নীল, হালকা হলুদ, জলপাই ও ধূসর রঙের পাঞ্জাবির বিক্রিই সব থেকে বেশি।

প্রায় সব ব্র্যান্ডশপই তাদের আউটলেটে বাহারি ডিজাইন ও রঙের কাবুলি সেট রেখেছে। ব্র্যান্ড ভেদে এসব কাবুলি সেটের দাম পড়ছে ৩৫০০ থেকে ৪৮০০ টাকা।

রাজধানীর শান্তিনগর থেকে ধানমন্ডির এক্সটাসিতে পাঞ্জাবি কিনতে আসা আবির মাহমুদ জানান, টানা দুই বছর কাবুলি সেট ভালো চলছে। গতবার ইয়োলো থেকে নিয়েছি, এবার এখান থেকে কিনব ভাবছি। এখানকার জলপাই আর ধূসর রঙের কাবুলি আলাদা লেগেছে।

বসুন্ধরা শপিং মলের দেশী-দশ, আড়ং ও অন্যমেলা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেও দেশি সুতি ও তশরের ওপর হাতের কাজ করা পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পছন্দের দেশীয় ডিজাইনের পাঞ্জাবি। এ ছাড়া বাচ্চাদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ২৬০০ টাকার মধ্যে।

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স মার্কেট কমিটির ‘গ’ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা বলেন, গত বছর আরও আগে বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার দেরিতে হলেও পাঞ্জাবির পাইকারি বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর কিছু না ঘটলে আশা করছি ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে।

পীর ইয়ামেনি মার্কেট দোকানদার সামিতির সভাপতি ও সাদ ফ্যাশনের কর্ণধার মোহাম্মদ কাউছার বলেন, চলতি সপ্তাহে আমাদের মার্কেটে পাঞ্জাবি বিক্রি অনেক বেড়েছে। আগামী শুক্র ও শনিবার থেকে পুরোদমে ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা।