advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফেঁসে গেলেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০১:০৮
advertisement

ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসামঞ্জস্য তথ্য থাকায় পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও মেডিক্যাল অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেন। সিভিল সার্জন ডা. শাহ মো. মোজাহিদুল ইসলাম সশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দেন এই হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মাদ্রাসাছাত্রী সীমাকে গণধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে ওই মামলা করেছিলেন তার মা শীলা আক্তার। গত বছরের ২৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন তিনি। এতে দানেশ চৌকিদারসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

এর পরদিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড সীমার লাশ ময়নাতদন্ত করে। এদিকে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলার আসামি দানেশ চৌকিদার।

জামিন আবেদনের শুনানিতে নিহত শিক্ষার্থীর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এতে গরমিল লক্ষ্য করে গত ৭ মে হাইকোর্ট এক আদেশে সিভিল সার্জনকে ২২ মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, ধর্ষণের শিকার নিহত শিক্ষার্থীর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বর্ণনায় চারটি ক্ষতের কথা উল্লেখ আছে। অথচ মন্তব্য অংশে শ্বাসরোধে হত্যার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে দুর্ঘটনা হিসেবে। শ্বাসরোধ করে হত্যা হলে সেটা আবার দুর্ঘটনা হয় কীভাবে?

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. রেজাউর রহমান প্রতিবেদনটি লিখেছেন। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সিভিল সার্জন। এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী গতকাল বুধবার সিভিল সার্জন শাহ মোজাহেদুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। আদালত তা খারিজ করে দিয়ে চিকিৎসককে বলেন, ‘এভাবে যদি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেন, তা হলে জাতির কাছে কী বার্তা যায়?

এমন রিপোর্টের কারণে একটা মামলার বিচার প্রভাবিত হয়, এমনকি রায় ভিন্ন হয়। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন বাদী।’ পরে আদালত ক্ষমার আবেদন নাকচ করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে দানেশ চৌকিদারের জামিন আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত।

এ আসামির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী তুষার বণিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।