advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সবুজের জীবনে অবশেষে ‘সবুজ সংকেত’

যশোর প্রতিনিধি
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০১:২৯
advertisement

হত্যা মামলার এক পলাতক আসামির বাবার নামে মিল ছিল। এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সবুজ বিশ্বাসের। পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে। হঠাৎ নিরপরাধ এক যুবকের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। তবে অনেক ‘নাটকের’ পর পুলিশ বুঝতে পারে তাদের ‘ভুল’।

অবশেষে সবুজের জীবনে ‘সবুজ সংকেত’ দেখা দেয়। তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আয়শা নাসরিন গতকাল বুধবার দুপুরে সবুজের জামিনের আদেশ দেন।

সবুজের আইনজীবী মোস্তফা হুমায়ুন কবির বলেন, মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, পুলিশ ভুল করে সবুজকে গ্রেপ্তার করে। মামলার আসামি জনি, আর কারাগারে থাকা সবুজ এক ব্যক্তি নন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত সবুজকে জামিন দিয়েছেন।

এদিকে দীর্ঘ তিন মাস কারাভোগের পর নিরপরাধ সবুজকে জামিন দেওয়ায় খুশি তার পরিবার। ফলে দুপুরে আদালত থেকে জামিনের কাগজ নিয়ে সবুজকে মুক্ত করতে কারাগারে যান সবুজের স্বজনরা। সবুজের বাবা খাইরুল বিশ্বাস বলেন, আমার ছেলে বিনা অপরাধে তিন মাস জেল খেটেছে। তবে আদালত তাকে শেষ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন জেনে আমরা খুবই খুশি।

এতে দেরিতে হলেও সত্যের জয় প্রতিষ্ঠিত হলো। আদালত ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামের মিঠু শেখ খুন হন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইসরাইল বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫ নম্বর আসামি সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে জনি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আসামি জনির পরিবর্তে প্রতিবেশী ট্রাক ড্রাইভার সবুজ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। সেই থেকে অন্যের অপরাধে কারাবাসে ছিলেন সবুজ। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা শুরু করেন জনি। এমনকি তিনি নিজেকে নিরাপরাধ দাবি করে গত ১৯ মে দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এর পর প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পর ক্লাবগেট থেকে প্রকৃত আসামি জনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর পুলিশের চোখে ধুলা দিতে তিনিই নিজেকে জনি বলে দাবি না করলে ওই হত্যা মামলার ভিকটিমের পরিবারের সামনে হাজির করা হয়। তখন তার ছলচাতুরী ধরা পড়ে এবং তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

advertisement