advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘বালিশ’ উপাখ্যান যেন অনিয়মের ‘হিমশৈলের চূড়া’ না হয় : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০০:৫৭
advertisement

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক ভবনের কেনাকাটায় অভূতপূর্ব অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো

হয়। বিবৃতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সর্বাঙ্গীণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে

সর্বোচ্চ

সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্প নিয়ে নানামুখী বিতর্ক থাকার পরও তা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু শুরুতেই ক্ষুদ্র একটি অংশে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তাকে আমরা এ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে মনে করি। তিনি বলেন, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সেখানে মাত্র ২৫ কোটি টাকা খরচের ক্ষেত্রেই যে ভয়াবহ

অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে শঙ্কিত হতেই হয়।

প্রকাশিত দুর্নীতির তথ্য অনুযায়ী অনিয়মের মাত্রা সাগরচুরিসম উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, এ ধরনের সরকারি প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। তার পরও এ অনিয়মের দায় কোন মন্ত্রণালয়ের, সেই বিতর্কে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ জড়িয়েছেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কোনো কোনো কর্মকর্তা আবার একে দুর্নীতি বলে মানতে নারাজ, এমন তথ্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আরও বেশি শঙ্কিত, কারণ দুর্নীতি দমন কমিশনও ‘ধীরে চলো নীতি’ ঘোষণা করেছে, প্রকল্পটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং বিভাগীয় তদন্ত চলছে এ যুক্তিতে। প্রকল্পটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে শুরুতেই সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিতে হবে যেন ‘বালিশ-কেটলির’ উপাখ্যান পুরো প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়মের ‘হিমশৈলের চূড়া’ হিসেবে প্রতীয়মান না হয়।

বিবৃতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকেই সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়ার প্রতি জোর দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার’ নীতির যথাযথ প্রতিফলিত করার দাবিও জানান তিনি।

advertisement