advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
২৩ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০০:৫৭
advertisement

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদ- প্রদান করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

দ-প্রাপ্তরা হলো বাসচালক হাবিবুর রহমান নয়ন (২৮), হেলপার খালেক ভুট্টো (২৩), আশরাফুল (২৬) ও সুপারভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল (৩৮)। তাদের মধ্যে জুয়েল পলাতক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এসএম নাসিমুল আখতার।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাসিমুল আক্তার নাসিম। তাকে সহায়তা করেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

অ্যাডভোকেট নাসিমুল আক্তার নাসিম বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তা এ রায়ে অনেকটাই নিরুৎসাহিত করবে। তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে কর্মরত এক গার্মেন্টকর্মী গৃহবধূ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর ৫টার দিকে ‘বিনিময় পরিবহন’-এর একটি বাসে কালিয়াকৈরের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় বাসটিতে অন্য কোনো যাত্রী ছিলেন না। কিছুদূর যাওয়ার পর কন্ডাক্টর বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। তখন বাসচালক হাবিবুর রহমান নয়ন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। পরে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বাসের কন্ডাক্টার ও হেলপার। এর পর বাসটি ঢাকা না গিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি ফাঁকা জায়গায় তাকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই নারী ঘটনাটি তার স্বামীকে জানান। তাকে তিনি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আটক করে। ধর্ষিতার স্বামী ৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট প্রদান করে এবং ৬ জনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামি আদালতে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অন্যদিকে ধর্ষিতা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি আশরাফুল নামের আরও একজনের নাম উল্লেখ করেন।

advertisement