advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজধানীর বুকে অস্ত্রোপচার

উন্নয়নকাজের ফাঁদে ভোগান্তিতে নগরবাসী

২৩ মে ২০১৯ ০১:৩৬
আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ০৯:০৭
advertisement

রাজধানীর অনেক সড়কেই চলছে নগরবাসীকে পরিসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি। এসব উন্নয়নকাজের ফাঁদে পড়ে একের পর এক বিধ্বস্তপ্রায় হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক। সংস্থাগুলোর কাজে কোনো সমন্বয় না থাকায় একটি সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি শেষ না হতেই শুরু হয় আরেকটি সংস্থার কাটাছেঁড়া।

এ ছাড়া কাজ শেষ হওয়ার পর যে সময়কালের মধ্যে সড়ক মেরামত করার কথা, অনেক ক্ষেত্রে সেটিও মানা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বছরজুড়েই রাজধানীর সড়কগুলো থাকে ভাঙা, খানাখন্দে ভরা। ফলে যান চলাচল বিঘ্ন হয়, বেড়ে যায় জট। এটি যেন এখন ‘প্রথা’ হয়ে পড়েছে।

তদুপরি বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে; পথে নামা নগরবাসীর পোহাতে হয় যারপরনাই ভোগান্তি। শুধু তাই নয়, মানুষের কর্মঘণ্টার একটা বড় অংশই অপচয় হয়ে যাচ্ছে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে। উন্নয়নকাজ করার সময় নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে না ঢাকা ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস, ডেসা, ডেসকোসহ পরিসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা। পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় একই সড়ক বারবার কাটা পড়ছে। ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলেও সড়ক সংস্কার না করেই ফেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। অথচ খোঁড়াখুঁড়ির ২৮ দিনের মধ্যেই সড়ক পুনঃসংস্কারের নিয়ম। যদিও বাস্তবে তা দৃশ্যমান নয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সড়কের অধিকাংশই এখন ভাঙাচোরা, গর্ত ও খানাখন্দে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। বরং পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর কোনো কোনো সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির পর ছয় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা মেরামত করা হয়নি। এদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বড় একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর বাইরে যে অংশটুকু, তাও উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়িতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ফকিরাপুল সড়কে মাসখানেক ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। রাস্তার প্রায় পুরোটাই গর্ত করা। পাশেই সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে সেই গর্তের মাটি। যান চলাচল সম্ভব নয়। তথৈবচ দশা কাকরাইল থেকে পল্টন পর্যন্ত সড়কটির। এ সড়কের একপাশ খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও পিচ ঢেলে আগে মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়নি। স্থানে স্থানে রয়েছে মাটির স্তূপ। মতিঝিলের টয়েনবি সার্কুলার রোডেও একই দৃশ্য। একেই তো সড়কের একটি অংশে গর্ত, তদুপরি গর্ত থেকে বের করা মাটিও ফেলে রাখা হয়েছে সড়কেই।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও দেখা গেছে একই চিত্র। বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির পরে গর্ত কোনোরকম ভরাট করলেও মাটি ফেলে রাখা হয়েছে রাস্তার ওপরেই। পুরান ঢাকার নারিন্দা থেকে লক্ষ্মীবাজার-সূত্রাপুর-শ্যামবাজার সড়কে কয়েক মাস ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। গতি দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনো তাড়া নেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার। এসব সড়কে তাই কর্মব্যস্ত সময়ে যানজট লেগেই থাকে। লক্ষ্মীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কমপক্ষে ছয় মাস হয়ে গেছে এসব সড়কে কাজ চলছে। বকশীবাজার মোড়, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র।

এদিকে মিরপুর অঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনশফিট সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। মিরপুর এলাকার অনেক রাস্তার পাথর আর পিচ উঠে গেছে; সর্বত্রই খানাখন্দে ভরা রাস্তা। এ এলাকার সিংহভাগ মানুষকেই প্রতিদিন এই বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

মিরপুর-১২ নন্বর থেকে কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কের মাঝখানের অংশটি ঘিরে রেখে চলছে কাজ। ফলে দুদিকের সড়ক সরু হয়ে গেছে। এ সরু অংশটিও খানাখন্দে ভরা। যান চলাচলের উপযোগী করার কোনো প্রচেষ্টা নেই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। চরম ব্যস্ত সড়কটিতে তাই যানজট গেছে বেড়ে। একই অবস্থা আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, টিএসসি হয়ে শিক্ষাভবন পর্যন্ত। মেট্রোরেলের কাজের জন্য সড়কের সংরক্ষিত স্থানের বাইরের অংশও বেহাল, চলাচলের অনুপযোগী প্রায়। এখানেও চরম যানজট থাকছে প্রতিদিন।

এ ছাড়া উত্তরার একাধিক সড়ক, আব্দুল্লাহপুরের সড়ক এবং মহাখালী হয়ে বনানীর কড়াইল বস্তি পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। বাসাবো, গোড়ান এলাকার কয়েকটি সড়কেও উন্নয়নকাজ শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু রাস্তা আগের মতো সংস্কার করা হয়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। তবে এসব এলাকায়ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রাস্তার ওপর বিভিন্ন পাইপ আর গর্ত করে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। যানবাহন দূরের কথা এসব সড়ক দিয়ে মানুষের হাঁটারও অবস্থা নেই। গতকাল যাত্রাবাড়ী হয়ে শেখদি আব্দুল্লাহ মোল্লা স্কুল পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় পথচারীদের হাঁটার জায়গা পর্যন্ত নেই। পুরো রাস্তার মাটি খুঁড়ে রাখা। আর রাস্তাজুড়েই বড় বড় পাইপ রাখা। দীর্ঘদিন ধরে এমন মাটি খুঁড়ে রাখা হলেও কাজে অগ্রগতি নেই।

এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীনকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি অর্থাৎ ডিএসসিসির সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, আমরা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট টাইম বেঁধে দিই। এর পরও কেউ কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

advertisement
Evall
advertisement