advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাবা-মায়ের সঙ্গে জীবনের শেষ ছুটিতে বায়েজিদ ও ফাতেমা

বাউফল প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০০:১৬
advertisement

দশ বছরের বায়োজিদ ও ছয় বছরের ফাতেমা। আপন ভাইবোন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে নানাবাড়ি থেকে স্কুলে লেখাপড়া করত। তাদের বাবা শাহ আলম ওরফে মামুন মৃধা ও মা মুনিরা বেগম ওরফে মুন্নী চাকরি করতেন গাজীপুরের রেনেসা অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায়। থাকতেন গাজীপুরের ইসলামপুর শরীফ মার্কেটের কাছে একটি বাড়িতে। সেই সুবাদে স্কুলের গ্রীষ্মের ছুটিতে দুই ভাইবোন নানিকে নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে গিয়েছিল। ঈদের ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল তাদের। কিন্তু দুই শিশু জানত না, এই ছুটিই তাদের জীবনের শেষ ছুটি হবে। গাজীপুরের ইসলামপুর শরীফ মার্কেটের কাছে একটি বাড়িতে গত বুধবার রাতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবা-মায়ের সঙ্গে তারাও পাড়ি জমায় জীবনের শেষ ছুটিতে।

দুই সন্তানসহ মামুন-মুনিরা দম্পতির গ্রামের বাড়ি বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে শুরু হয় স্বজনদের মাতম। ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় চারজনকে।

সূর্যমনি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু জানান, জীবিকার তাগিদে শাহ আলম ওরফে মামুন মৃধা গাজীপুরের রেনেসা অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। একই কারখানায় স্ইুং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তার স্ত্রী মুনিরা বেগম ওরফে মুন্নী। তারা ইসলামপুরের ইকবাল মাহামুদ নামের একজনের বাড়িতে ভাড়া থাকত। তাদের ছেলে বায়োজিদ (১০) ও মেয়ে ফাতেমা (৬) নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করত। গ্রীষ্মের বন্ধে নানির সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল বাবা-মায়ের কাছে। ঈদে বাবা-মার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বাউফলের সূর্যমনির কালিকাপুরে আসার কথা ছিল এই দুশিশুর।

গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মুন্নী তরকারি গরম করার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার জ্বালাতে যান। এ সময় বিস্ফোরণে সারা ঘরে আগুন ধরে যায়। কোনোমতে মুন্নি ও শাহ আলম ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। কিন্তু বায়োজিদ ও ফাতেমা ঘরে থাকায় তাদের উদ্ধার করতে পুনরায় তারা ঘরের মধ্যে গেলে দুই সন্তানসহ শাহ আলম ও মুন্নি বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যান। এ অবস্থায় ঘরেই মারা যান চারজন।

advertisement