advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হবিগঞ্জে সুদের টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০০:১৬
advertisement

সুদের টাকা পরিশোধ না করায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নয়াপাতারিয়া গ্রামের সাজেল মিয়া ওরফে সাজনকে পিটিয়ে হত্যা করে সুদখোররা। হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়ে এ তথ্য জানান ঘাতক মিজানুর রহমান মিজান। গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ সদর (সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম।

আসামির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার আলম বাজারে তাজউদ্দিন ও মহিন উদ্দিনের টমটম গ্যারেজ থেকে সাজেল মিয়া ওরফে সাজনকে গুরুতর অবস্থায় সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায় কয়েকজন। হাসপাতালে তাকে নিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বলে ভর্তি করায় তারা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজন মিয়াকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতজনিত কারণে সাজন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা মতামত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের মা বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর কাউরিয়াকান্দি গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, নয়াপাতারিয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন, টলিয়া গ্রামের রুস্তম আলী, টমটম গ্যারেজ মালিক তাজউদ্দিন ও মহিন উদ্দিনসহ আরও অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক উত্তম কুমার দাস আসামি মহিন উদ্দিন ওরফে মহিউদ্দিন ও তারেককে গ্রেপ্তার করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কৌশলে সাজন মিয়া হত্যার ঘটনা এড়িয়ে যান। বুধবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ সদর (সার্কেল) মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে মামলার অন্যতম আসামি বানিয়াচং উপজেলার কাউরিয়াকান্দি গ্রামের টমটমচালক মিজানুর রহমান মিজানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সাজন হত্যার আসামি তাজউদ্দিন ও মহিন উদ্দিন ওরফে মহিউদ্দিন তার পরিচিত। এক সময় তাদের গ্যারেজে সে থাকত। তাজউদ্দিন ও মহিন উদ্দিন উভয়েই সুদের ব্যবসায়ী। নিহত সাজন মিয়া সুদখোর তাজউদ্দিনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নেয়। কিন্তু ওই টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় তাজউদ্দিনের সঙ্গে সাজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সাজন মিয়া গ্যারেজের সামনের রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে মহিন উদ্দিন, তাজউদ্দিন ও মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাত আরও দুজন তাকে ডেকে টমটম গ্যারেজের ভেতর নিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে কিল, ঘুষি ও পাইপ দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করলে সাজন মিয়া মাটিতে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলে ভর্তি করে দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

advertisement