advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট

সঠিক নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৫৯
advertisement

ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ লুণ্ঠনকে তেমন গুরুত্ব দেননি সাবেক অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত। তাতে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার তো হয়নি, বরং মনে হচ্ছে ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আর অতিসম্প্রতি ঋণখেলাপিদের জন্য সরকার যে সুবিধা দিয়েছিল তাতেও খেলাপিদের উৎসাহিত হওয়ার কথা।

আর এই দৃষ্টান্ত ভালো গ্রহীতাদেরও উৎসাহিত করবে খেলাপি হওয়ার দিকে, তবে যথাসময়ে উচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করায় সরকারের ঋণখেলাপি তোষণের নীতি ভেস্তে যাচ্ছে বলেই মনে হয়। তবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব থাকায় আমানতের জন্য মানুষ সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সঞ্চয়কেই অধিকতর নিরাপদ ভাবছে।

সব তথ্যপ্রমাণে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকে আমানত রাখার হার কমছে। বিপরীতে ব্যাংকের তরফ থেকে ঋণ প্রদানের পরিমাণ বেশি। তা ছাড়া সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পে অর্থ জোগাতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানত ছাড়তে হচ্ছে। প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলারও কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিদেশে টাকা সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। এর বিপরীতে বিনিয়োগ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় লেনদেন কমছে।

আমাদের সময়ের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংকের নিজস্ব নিয়মিত ব্যয় মেটানোর মতো তারল্যেরও সংকট রয়েছে। এ ধরনের খবর ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং হতাশা ছড়িয়ে দেবে। উন্নয়নের যাত্রাপথে যখন আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ওপরে আছে তখন ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থা একটি অশনি সঙ্কেত বৈকি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে ও বিনিয়োগে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞদের বারবারের সাবধান বাণী উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নতুন ব্যাংকের অনুমতি দিয়েছে, আবার ব্যাংক ঘিরে সৃষ্ট দুর্নীতি রোধে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং এ খাতের মূল নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে সরকারের নানা কৌশলী বিবেচনা বাস্তবায়নে বাধ্য করে সংকটকে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের ওপর সরকারের অতিনিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে এ খাতে সংঘটিত দুর্নীতি রোধে যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের অভাবে সামগ্রিকভাবে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান তারল্য সংকট গ্রাহকদের আস্থাহীনতারই বহির্প্রকাশ। আমরা আশা করব পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।