advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজধানীর বুকে অস্ত্রোপচার

দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৯:০৫
advertisement

রাজধানীর সড়কগুলোতে ক্রমবর্ধমান যানজটের জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা হয় রাস্তায় যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি তার অন্যতম। ঘন ঘন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীর তীব্র যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে জনগণের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীবাসী কতটা দুর্ভোগের শিকার হয় তা গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর অনেক সড়কেই চলছে নগরবাসীকে পরিসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি। এসব উন্নয়নকাজের ফাঁদে পড়ে একের পর এক বিধ্বস্তপ্রায় হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক। সংস্থাগুলোর কাজে কোনো সমন্বয় না থাকায় একটি সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি শেষ না হতেই শুরু হয় আরেকটি সংস্থার কাটাছেঁড়া।

এ ছাড়া কাজ শেষ হওয়ার পর যে সময়কালের মধ্যে সড়ক মেরামত করার কথা, অনেক ক্ষেত্রে সেটিও মানা হচ্ছে না, যা দুর্ভাগ্যজনক। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বছরজুড়েই রাজধানীর সড়কগুলো থাকে ভাঙা, খানাখন্দে ভরা। ফলে যান চলাচল বিঘ্ন হয়, বেড়ে যায় জট। এটি যেন এখন ‘প্রথা’ হয়ে পড়েছে। তদুপরি বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে; পথে নামা নগরবাসীর পোহাতে হয় যারপরনাই ভোগান্তি। উন্নয়নকাজ করার সময় নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে না ঢাকা ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস, ডেসা, ডেসকোসহ পরিসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা।

পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় একই সড়ক বারবার কাটা পড়ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বড় একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর বাইরে যে অংশটুকু, তাও উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়িতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন মাটি খুঁড়ে রাখা হলেও কাজে অগ্রগতি নেই। বলা হয়েছে, সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কাজে আনতে হবে গতিশীলতা।

কিন্তু সমন্বয় সাধনের এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টরা কতটা মানবেন, তা প্রশ্নবোধক থেকে যায়। রাজধানীর সড়ক কখন কোথায় খোঁড়া হবে তা জনগণকে জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা ও মান রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর নজরদারি ও আপসহীন ভূমিকা ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। কোনো সড়ক খোঁড়ার পর তা দ্রুত মেরামত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই নাগরিক স্বার্থে নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়। জনগণকে দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা হোক।

advertisement