advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দায়ীদের শাস্তি দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৫৫
advertisement

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ইনজেকশন পুশ করার পর থেকে জীবন সংশয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম সুলতানা মুন্নির চিকিৎসা খরচ বহন করা ও দায়ীদের শাস্তিসহ চারদফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী হাতে হাত ধরে মানববন্ধন রচনা করে। তারা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভুল চিকিৎসকের ঠাঁই নাই, মুন্নি আজ মৃত্যুর মুখে কেন জবাব চাই, মানবতার মা তুমি মুক্ত কর জন্মভূমি, কসাই তপনের বিচার চাই, প্রশাসন নীরব কেন, আমরা বাঁচতে চাই’ এমন সব প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটিই বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেখ তারেক, অর্নি খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিনিয়ত অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটে। মরিয়ম সুলতানা মুন্নি তারই শিকার। শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হচ্ছেই-নজেকশন পুশে জড়িত ডাক্তার ও দুই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মুন্নির চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করা, মুন্নির ভুল চিকিৎসা নিয়ে অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসায় জেলা প্রশাসকের মনিটরিং জোরদার করা।

প্রসঙ্গত, পিত্তথলিতে পাথরের অপারেশনের জন্য গত সোমবার মুন্নিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. তপন কুমার মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার সকালে শরীরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই ডা. তপনের নির্দেশে ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স শাহানাজ পারভীন ও কোহেলিকা মুন্নির শরীরে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশনের পরিবর্তে চেতনা নাশক ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরই মুন্নি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ধীরে ধীরে ওই ছাত্রীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা দায় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে তাকে খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

খুলনায় ভর্তি করা হলেও মুন্নির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বুধবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং আগের থেকে খারাপ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

advertisement