advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চালককে হত্যার পর লাশ ফেলে গাড়ি নিয়ে পালায় তিন দুর্বৃত্ত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৯:০৬
advertisement

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাড়িচালক মোশারফের লাশ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার পর লাশ ফেলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। আদালতে স্বীকারোক্তিতে এমন তথ্যই জানিয়েছেন এক ঘাতক। মোশারফ হত্যায় জড়িত অন্যতম দুইজনকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তাদের একজন সালাউদ্দিন মীর মিলন গত বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান আলম প্রধানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করে। রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী।

কুতুবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের ২৭ মে ঢাকা থেকে ইউনিক গাড়িতে করে সিলেটে এসে জাফলং যাওয়ার জন্য গাড়িচালক মোশারফের প্রাইভেট কার ভাড়া নেয় তিন দুর্বৃত্ত। সেখানে ঘুরে তারা সিলেট শহরে ফিরে যায়। পরে সেখান থেকে বিয়ার কিনে এর সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কৌশলে গাড়িচালককে পান করিয়ে অচেতন করে। চালক মোশারফকে গাড়িতে নিয়ে আসামি শামীম প্রাইভেট কার চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

পথে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রূপশংকর এলাকায় চালককে গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে প্রাইভেট কার নিয়ে চলে যায়। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় নরসিংদী এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টের ভয়ে গাড়ি রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। এদিকে বাহুবল থানার পুলিশ ২০১৮ সালের ২৮ মে লাশ উদ্ধার করলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোশারফের পরিবার দেখতে পেয়ে বাহুবল থানায় এসে শনাক্ত করে নিয়ে যায়।

পিবিআই কর্মকর্তা কুতুবুর রহমান জানান, মামলাটি থানার পুলিশ প্রথমে তদন্ত শুরু করে। পরে এটি হবিগঞ্জ পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়। পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. ফরিদুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গাড়িতে রক্ষিত একটি কেস স্লিপের সূত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিভিন্ন কৌশল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে মো. শামীম ফকিরকে (৪০) ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতে বরিশালের উজিরপুর এলাকা থেকে আরও একজন সালাউদ্দিন মীর মিলনকে আটক করা হয়েছে।

advertisement