advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিজেপির জয় অপ্রত্যাশিত ছিল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৯:০৭
advertisement

ভারতে এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকসভা নির্বাচনের গতকাল ফল প্রকাশ হলো। এতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি দোর্দ- প্রতাপ নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে চলেছে। বিজেপি গত ২০১৪ সালের থেকেও ভালো ফল করেছে।

জোট ছাড়াই বিজেপি একাই তিনশর বেশি আসন পেয়েছে। অথচ ২০১৪ সাল দলটি পেয়েছিল ২৮২ আসন, আর বিজেপি জোট পেয়েছিল ৩৩৬ আসন। এবার জোটের দিক থেকেও আসন সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু বিজেপির জন্য কি এ জয় অপ্রত্যাশিত ছিল? না, একেবারেই না। খোদ বিরোধীরাই বলছেন এ কথা। আর যে মোদি জোয়ারকে মনে করা হচ্ছিল ম্লান হয়েছে, তা তো ম্লান হয়ইনি বরং আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

মোদিকে বিরোধীরা ‘হিটলার’ বলে গালি দিলেও সেই একটি মুখই অর্থাৎ মোদি ম্যাজিকই বিজেপির জন্য অন্যতম নিয়ামক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদ অপ্রত্যাশিত ছিল না। একই সঙ্গে মোদিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ওমর আব্দুল্লাহ বলেন-আমরা নির্বাচনে বিজেপির ও এনডিএ জোটের বিকল্পের জন্য লড়াই করেছি।

কিন্তু দেশবাসী সেটি গ্রহণ করেনি। বিরোধী অন্যরাও ওমর আব্দুল্লাহর সুরে সুর মিলিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেনÑ জনগণ দেশের মালিক। জনগণ যে রায় দিয়েছে সেটি মাথা পেতে নেব। তার পরও কথা থেকে যায়। ৫ বছর দেশ শাসন করার পর কিছু হলেও তো জনপ্রিয়তা কমার কথা-সে ক্ষেত্রে মোদির জনপ্রিয়তা আরও বাড়ল! সেটি কোন কৌশলে।

আসলে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলই বিজেপিকে জয় এনে দিয়েছে। এবার সবচেয়ে যে বিষয়টি আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা হলো উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ-মায়াবতী জোট। আর এই জোটের হিসাব মাথায় রেখে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় নতুন পরিকল্পনা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এবার কড়া নজর রেখেছিল। প্রচারণায় সময়ও বেশি দিয়েছে। আর তার ফলও হাতে হাতেই পেয়েছে।

এদিকে বিজেপিবিরোধী যে প্রচারগুলো ছিল, তার মধ্যে বেকার সমস্যা, নোটবন্দি, উগ্র জাতীয়তাবাদ, হিন্দুত্ববাদ। কিন্তু ফলে দেখা গেল এসব কোনোটাই বিজেপির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। যেগুলো মনে করা হয়েছিল বিজেপির জন্য দুর্দিন নিয়ে আসবে ভোটাররা, ভোট দেওয়ার সময় সেগুলো আমলে নেয়নি। আর মোদি আমলে আর যাই হোক ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী ভীতে দাঁড়িয়েছে।

দেশটি বিশ্বে ষষ্ঠ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। মোদির আমলে যে দুর্নীতির ধোঁয়া তুলে কংগ্রেস তাকে ‘চৌকিদার চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছিল, সেটিও ম্লান হয়ে গেছে। বিষয়টি যে শুধু সমাজের ওপরশ্রেণির মামলা তা বোঝা গেছে। ‘আমজনতার’ মাঝে ঠিকই মোদির জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি যে কারণে বেশি এগিয়ে রয়েছে, তা হলো কট্টর হিন্দুত্ববাদী প্রচার। সমাজের ওপরতলার মানুষ যতই এটিকে নেতিবাচক হিসেবে প্রচার করুক না কেন, সাধারণ মানুষ হিন্দুত্ববাদকেই নিরাপদ মনে করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে বিজেপির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বিল ও আধার কার্ড নিয়ে যে উত্তাপ ছিল ভোটে সে প্রভাব পড়েনি। এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি আসলে তুখোড় রাজনীতিক কৌশলের পরিচয় দিয়েছে। সেটি কিছুটা আঁচ করা যায় ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের ফলের দিকে তাকালে। মাত্র সাত মাস আগে এ তিনটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে এনেছিল কংগ্রেস।

আর গতকাল তিনটিতেই বিজয় পতাকা উড়িয়েছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই কংগ্রেসের সেই উত্থানে অনেক রাজনৈতিক প-িতই পালাবদলের ইঙ্গিত দেখতে পেয়েছিলেন। বলা হচ্ছিল-গোবলয়ের চাকা অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে দিয়েছে। এই ইঙ্গিতে ভর করেই দিল্লি দখলের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল কংগ্রেস। একই স্বপ্ন দেখছিলেন আঞ্চলিক দলগুলোর নেতারাও। সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্বপ্ন।

সাত মাসের মধ্যে ভোটারদের আশীর্বাদ এভাবে ফিরে আসাটা বোধহয় আশা করেননি অতি বড় বিজেপি সমর্থকও। যদিও ভারতীয় গণতন্ত্রে এমন নজির নতুন নয়। একই দিনে মানুষ লোকসভায় একজনকে ভোট দিয়েছেন, আর বিধানসভায় অন্যকে। এমন ঘটনার নিদর্শন আছে সেই দেশেই। তাই বিধানসভায় যখন ভোটারদের পছন্দ কংগ্রেস, লোকসভায় তখন তারা যাচ্ছেন মোদির দিকেই।