advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উত্তরপ্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়ল মহাজোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৫৯
advertisement

মোদিকে গদিচ্যুত করার জন্য যে রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারত, তার নাম উত্তরপ্রদেশ। কারণ লোকসভায় সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতা পাঠায় এই রাজ্য। এখানে লোকসভার আসন ৮০টি। বলা হচ্ছিল, এই রাজ্যে যে দল জয় পাবে, তারাই কেন্দ্রে সরকার গঠন করবে। তা-ই দেখা যাচ্ছে।

রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি আবার বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। সঙ্গত কারণেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বিরোধীদের ‘মহাগাটবন্ধন’ বা মহাজোট। এনডিটিভি জানায়, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) জোট মাত্র ২১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে গতবারের চেয়ে এই দুই দলের সমষ্টিগত অর্জন বেশি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা মাত্র পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছিল। এই রাজ্যে এবার বিজেপি ও তার শরিক দলগুলো জয় পাচ্ছে ৫৮ আসনে। মহাজোটের প্রায় তিনগুণ। তবে গতবারের তুলনায় বিজেপি কিছুটা হোঁচটই খেয়েছে বলা চলে। সেবার মোদির জোট পেয়েছিল ৭৩ আসনে জয়।

এবার কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। রাইবেরেলি থেকে সোনিয়া গান্ধী জয় পেয়েছেন। আমেথি থেকে হারতে বসেছেন রাহুল গান্ধী। উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী-অখিলেশ জোট ৫০টিরও বেশি আসনে জয় পাওয়ার আশা করেছিল। যাদব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটে ভর করে বিজেপিকে পেছনে ফেলার প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। কিন্তু সে আশায় তাদের গুড়েবালি। এমনকি একদিন আগেও মায়াবতী ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু যে আশায় ভর করে তিনি এই প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন, তা মিলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসকে জোটের বাইরে রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়াবতী, এতে বিজেপিবিরোধী ভোট ভাগাভাগি হয়ে খোদ বিজেপিরই সুবিধা করে দিয়েছে। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সব থেকে বেশি সংখ্যক প্রধানমন্ত্রী উপহার দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। নেহরু থেকে চন্দ্রশেখর, ইন্দিরা থেকে রাজীব, সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কিন্তু বিজেপি জিতে গেল হিন্দুত্বের লাইনে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে।

আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন সংস্করণে যেমন লিখেছে, ‘সারাদেশে যখন গোরক্ষকদের বাড়াবাড়ি নিয়ে সমাজের একটা অংশে প্রতিবাদের ঝড় উঠছে, তখন তারা পাশে দাঁড়িয়েছিল গোরক্ষকদেরই। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির তৈরির দাবিতে অটল ছিল তারা, যা ফের জায়গা করে নিয়েছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও। এই হিন্দুত্বের লাইনই ফের দুহাত তুলে আশীর্বাদ করল বিজেপিকে। মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের রাস্তা থেকে সব কাঁটা সরিয়ে যেন আবার ফুল ছড়িয়ে দিল উত্তরপ্রদেশে।’

advertisement