advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কংগ্রেস কেন ব্যর্থ হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ মে ২০১৯ ০৮:৩২
advertisement

এবারের নির্বাচনে গতবারের চেয়ে ‘দ্বিগুণ সাফল্য’ পেয়েছে ভারতের সবচেয়ে পুরনো দল কংগ্রেস। এবারও তারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে থাকবে। কিন্তু রাহুল গান্ধী নিজেকে মোদির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থই হলেন।

আসন সংখ্যা বাড়লেও কংগ্রেসের ঝুলিতে বলার মতো তেমন কিছুই প্রায় রইল না। ভোটের ফল বলছে, মোদির পরিবর্ত হিসেবে রাহুলকে দেশবাসী গ্রহণ করেননি। কিন্তু এমন ভরাডুবির কারণ কী?

আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলে মোদির বিরুদ্ধে যে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চেয়েছেন রাহুল, তা ভালোভাবে নেননি ভোটাররা।

ফল হাতেনাতে পেয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। গণমাধ্যমটি কংগ্রেসের পরাজয়ের দুটো কারণ ব্যাখ্যা করেছে। ১. ধরি মাছ না ছুঁই পানি দলটির ভরাডুবির অন্যতম কারণ হলো, দিশাহীনতা। ভোটের আগে পর্যন্ত রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে পারেনি।

তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি), তৃণমূল কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), সমাজবাদী পার্টি (এসপি) নেতৃত্ব যখন বিজেপিবিরোধী মঞ্চ গড়ে একজোট হওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন কংগ্রেস তাদের সঙ্গে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো অবস্থান বজায় রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গে জোট গড়েনি কংগ্রেস।

দিল্লিতে কেজরিওয়ালের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেনি। উত্তরপ্রদেশে এসপি-বিএসপি জোটে শামিল না হয়ে আলাদা করে লড়েছে। জোট বলতে শুধু ইউপিএর শরিকদের সঙ্গে তামিলনাড়–, মহারাষ্ট্র, বিহারের মতো কয়েকটি রাজ্যে আসন সমঝোতা হয়েছে।

ভোটের পর এই জোটে শামিল হবে কিনা, নিজেরা সরকার গড়ার মতো অবস্থায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি সাধারণ মানুষ।

বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি কংগ্রেসের এই দোদুল্যমান অবস্থান। ২. নেতিবাচক প্রচার কংগ্রেসের পরাজয়ের দ্বিতীয় কারণ তাদের নেতিবাচক প্রচার। ক্ষমতায় এলে কী করবেন, সেটার থেকেও রাহুলের প্রচারে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মোদি বিরোধিতা। ‘ন্যায়’ প্রকল্পে গরিব কৃষকদের বছরে ৭২ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ছাড়া সেভাবে কোনো সদর্থক বার্তা ছিল না রাহুলের প্রচারে।

অর্থনীতি, শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে কংগ্রেসের রোডম্যাপ কারও কাছেই স্পষ্ট হয়নি। বরং মোদি জমানায় কী কী দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে, নোটবন্দি-জিএসটিতে কী ক্ষতি হয়েছে, সে সবের কোনো দিশা ছিল না রাহুল তথা কংগ্রেসের প্রচারে।

শুধু গোঁয়ার্তুমির মতো মোদি সরকারকে হঠাতে হবে, এটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু তাকে সরিয়ে বিকল্প কে আসবেন এবং তারা দেশবাসীকে কী দেবেন, তার কোনো রূপরেখা তৈরি হয়নি।

advertisement